হারানোর উৎসব
সব হারিয়ে যায়
চলছে হারানোর উৎসব
স্বপ্নরা হারিয়ে যায়
কল্পনা হারিয়ে যায়
বন্ধু হারিয়ে যায়
হারিয়ে যায় প্রিয়ো মুখ।
চারোদিকে হারানোর মিছিল
আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে চলছে হারানোর উল্লাস
এতসব হারানোর মাঝে কখন যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি বুঝিনি।
হাত থেকে হাত হারিয়ে যায়
মুখ থেকে হাসি
সব হারিয়ে কেমন দারুণ আমি বেঁচে আছি।
খাঁচা ছেড়ে পাখি হারিয়ে যায়
ঘর থেকে মানুষ
আকাশ থেকে চাঁদ হারিয়ে যায়
হাত থেকে ফানুশ।
শুধু থেকে যায় হৃদয়ের কাঁদামাখা পথে—
স্মৃতি দুঃখগুলো পদচিহ্ন হয়ে আঠার মতো
নদীর খোঁজ
আমি একটা নদী খুঁজি
প্রবাহিত স্রোতবাহী নদী
রোজ বিকেলে ইট পাথরের শহর ছেড়ে
মাঠের ওপাড় খুঁজতে বেরুই নদীটারে।
যেই নদীটা একূল ভাঙে ওকূল ভাঙে
আবার গড়ে নিজের মতো
সেই নদীটা আমার ভেতর বইতে দেব
দিবারাত্রি আমার পাঁজর ভাংতে দেব দুকূল হয়ে
ভাসতে দেব নিজের মতো।
আমি একটা নদী খুঁজি
যেই নদীতে কূলবধুটা নাইতে আসে
বাইতে আসে সুজন মাঝি
এলোকেশের কিশোরী ও ঘুরতে আসে কলসি কাঁখে
নদীর জলে মুখ দেখে যে লাজে মরে সেই নদীটা।
যেই নদীটা হেসে উঠে ছলাৎছলাৎ
হাসিতে যার বুকের মাঝে কাঁপন উঠে
মনেমনে আমিতো সেই কাঁপন খুঁজি।
ঐ নদীটার কোন এক নাম থাকতে পারে
কোমলাঙ্গী, নীলাবতী, তন্মিলা ও
নাথাকলে নাম নিজের মতো দিয়ে দেব।
আমি একটা নদী খুঁজি
যেই নদীটা চোখের ভেতর স্বপ্ন আনে
লোক মুখে তাঁর অনেক রকম গল্প আছে
নদীকে ঘিরে অনেক কথা রইছে জমা
কখনো যদি পাই আমি ঐ নদীটারে
বলব শুধু কোথায় ছিলে এতটা কাল প্রিয়তমা।
বুদ্বুদ
অসংখ্য বছরের পর আমি পুনুরায় জেগে উঠলাম
ডোবায় কালো জলের বুদ্বুদ হয়ে
যেখানে ঘর বেধেছে একটি ফড়িং ও নীল পদ্ম
আধাঁর রাত্রিতে আসর বসে জোনাকির
রূপোলী মেঘ জমে থাকে জানলার কার্নিশে
জোছনার আলোয় করে তারা মিলন।
আমি চেয়ে থাকি ব্যাঙ্গের বিস্মিত চোখে
ঝিঁঝিঁপোকা এখনো ডাকে
এখনো প্লাবন আসে কিশোরীর বুকে
রোদে মেঘে খেলা করে
বাতাসে কদম গন্ধ ভাসে
বিদ্যুৎ চমকালে সবমেঘ জমা করে চোখের পাতায়
তবে এতটা কাল আমি ছিলেম কোথায়?
কেনো শুনিনি মৌসুমি ঝড়ের স্লোগান
দেখিনি রাজপথে গণআন্দোলনের জোয়ার
শুনিনি নেকড়ে, কুকুরের কবলে
নিশি কন্যার আর্তনাদ
দেখিনি টবে ফোটা লাল গোলাপ
বুঝিনি যে নারীর অভিমানে চোখে জল আসে
সে ভালোও বাসে।
তবে কি সত্যিই মৃত্যু আমার হয়েছিলো..!
পুনর্জন্ম বলে কিছু আছে কি এ ধারায়?


