হার্ট অ্যাটাক কি ও কেন হয়?

হার্ট অ্যাটাক কি ও কেন হয়?

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হার্ট অ্যাটাক একটি জটিল সমস্যা। বিভিন্ন কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক হল হার্ট ঠিক মত কাজ না করা। করোনারি আর্টারি নামে হৃৎপিন্ডের গায়ে থাকে দুটি ছোট ধমনী। এরাই হৃৎপিন্ডে পুষ্টির যোগান দেয়। হৃৎপিণ্ড বুকের মাঝখানে ও বাঁ পাশের কিছু অংশজুড়ে থাকে। সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালনের কাজ করে থাকে। হার্ট একমাত্র অঙ্গ, যা সারাক্ষণ কাজ করে, কখনোই বিশ্রাম নেয় না।

হার্টের রক্তনালির কাজ : সারাক্ষণ হার্টের কাজ করার জন্য প্রয়োজন হয় অক্সিজেন ও পুষ্টি। এ অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহের জন্য রয়েছে হার্টের নিজস্ব রক্তনালি। মূলত তিনটি রক্তনালি তাদের শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ করে থাকে হার্টের মাংসপেশিতে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু এ তিনটি রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই হয়।

হার্ট অ্যাটাক কীভাবে হয় : তিনটি রক্তনালির যে কোনো একটি যদি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে হার্ট অ্যাটাক হয়। রক্তনালি যদি আস্তে আস্তে অনেক দিন ধরে বন্ধ হয়, তাহলে হার্ট অ্যাটাক নাও হতে পারে, হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে অবশ্যই হার্ট অ্যাটাক হবে।

অনেকের শরীরে বিভিন্ন রক্তনালিতে চর্বি জমে এবং রক্তনালি সরু হতে থাকে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ কমতে থাকে। হঠাৎ করে রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাবে কি না, তা নির্ভর করে রক্তনালির মধ্যে জমে থাকা চর্বির ভেতরের দিকের যে আবরণ থাকে, তার ধরনের ওপর। ভেতরের দিকের আবরণ ফেটে গেলে সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তনালির সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। হার্টের মাংসপেশি নষ্ট হতে থাকে এবং একেই হার্ট অ্যাটাক বলা হয়। তবে আট ঘণ্টার মধ্যে যদি রক্তনালি খুলে দেয়া যায় তাহলে হার্টের মাংসপেশিকে রক্ষা করা সম্ভব।

গবেষণায় বিভিন্ন ফ্যাক্টরকে রক্তনালির ওপরের আবরণ ফেটে যাওয়ার জন্য দায়ী করা হয়ে থাকে। যেমন-

১. অতিরিক্ত পরিশ্রম করা, যে পরিশ্রমে শরীর অভ্যস্ত নয়।

২. অতিরিক্ত খাওয়ার পরপর শারীরিক পরিশ্রম করা।

৩. একসঙ্গে অতিরিক্ত ধূমপান করা।

৪. নিদ্রাহীনতা।

৫. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা।

৬. হঠাৎ উত্তেজিত হওয়া বা রেগে যাওয়া।
৭. শরীরে যে কোনো ধরনের ইনফেকশন।

হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ

সাধারণত বুকের মাঝখানে ব্যথা হয়। কখনও কখনও বুক চেপে আসা, বুক ভারি লাগা, বুক জ্বলে যাওয়া এ রকম উপসর্গ হতে পারে। বসা, শোয়া অবস্থায়ও ব্যথা হয়, ব্যথাটা বাঁ হাতে, গলায়, পেছনে ছড়িয়ে যেতে পারে। ব্যথার সঙ্গে ঘাম, বমি হওয়া ও শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে পারে। হার্ট অ্যাটাক কীভাবে এড়িয়ে চলা যায়।

১. যেসব কারণে রক্তনালির আবরণ ফেটে যায়, সেগুলোকে এড়িয়ে চলা।

২. হাঁটলে হার্টে নতুন নতুন রক্তনালি তৈরি হয়।

৩. যাদের বয়স ৪০ বছর পার হয়ে গেছে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি, তারা নিয়মিত অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাবেন।
৪. কোলস্টেরল কমানোর ওষুধ রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা কমানো ছাড়াও রক্তনালির ওপর জমে থাকা চর্বির আবরণ শক্ত করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *