পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইরানে বাধ্যতামূলক পোষাক কোড অমান্যকারী নারীদের চিহ্নিত করতে বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা স্থাপন করছে দেশটির সরকার। পুলিশ শনিবার এক ঘোষণায় জানায়, হিজাবহীন নারীদের চিহ্নিত করে তাদের যেন সাজা দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগের মিজান নিউজ এজেন্সি এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় প্রচার হওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, হিজাব আইন অমান্যকারীদের লাগাম টেনে ধরতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারণ অমান্যকারীরা ইরানের আধ্যাত্মিক ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করছে।
কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেফতার করে। ইরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।
পুলিশের হেফাজতে থাকার সময়ে মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। তার পরিবার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন শুরু থেকেই দাবি করছে, গ্রেফতারের সময় মাহসার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে লাঠির আঘাত করে পুলিশ। এ কারণেই পরে তিনি চেতনা হারিয়ে কোমায় চলে যান।
তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মাহসার মৃত্যুর কারণ ‘অসুস্থতাজনিত’। দেশটির ফরেনসিক চিকিৎসকদের সংগঠন এক বিবৃতিতে দাবি করে মাহসা আমিনির মৃত্যুর কারণ আঘাতজনিত নয়, বরং বিশেষ কোনো শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান। তবে ওই বিবৃতিতে মাহসাকে আঘাতের তথ্য অস্বীকার করা হয়নি।
সেদিন সন্ধ্যা থেকে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পরে বিক্ষোভ। মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে নারীরা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলে ইরানে। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।
নারীরা হিজাব পুড়িয়ে, চুল কেটে এই আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছেন। বাধ্যতামূলক পোষাক কোড অমান্য করার জন্য গ্রেফতারের ঝুঁকি নিয়েই নারীরা এখন সারা দেশের মল, রেস্তোরাঁ, দোকান এবং রাস্তায় ব্যাপকভাবে হিজাব ছাড়া ঘোরাফেরা করছে।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি শরিয়া আইনে নারীরা তাদের চুল ঢেকে রাখার পাশপাশি ঢিলেঢালা পোশাক পরতে বাধ্য। লঙ্ঘনকারীরা জন্য রয়েছে জনসাধারণের তিরস্কার, জরিমানা। এমনকি সতর্কতার পর সচেতন না হলে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয় নারীদের।
সূত্র: রয়টার্স


