পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে কোণঠাসা হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনের আমির মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী রবিবার রাত ১১টার দিকে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় এই ঘোষণা দেন।
বাবুনগরী বলেন, ‘দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে আবার হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রম শুরু হবে।’
এই ঘোষণার আগে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার পর থেকে মাদরাসাটি ঘিরে রাখে বিপুলসংখ্যক র্যাব-পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তার অভিযানের আশঙ্কাও তৈরি হয়। তবে রাতে বৈঠকের পর কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা এলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাদরাসা থেকে দূরে সরে আবস্থান নেন।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান উপলক্ষে গত মাসের শেষ দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সহিংসতা চালায় হেফাজত।
হেফাজতের পক্ষ থেকে সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা করে বৈঠকের খবরও প্রকাশ পেয়েছে। গত সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে হেফাজত নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল গ্রেপ্তার বন্ধ করে সমঝোতার প্রস্তাব দেয়। আলোচনায় মামুনুল হকসহ রাজনৈতিক নেতাদের সংগঠন থেকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত কওমি মাদরাসা পরিচালনাসহ তিনটি শর্ত দেওয়া হয় হেফাজতকে। এরপর পদবঞ্চিত অরাজনৈতিক নেতারা সক্রিয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছিল। গতকালই কওমি মাদরাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ ঘোষণা দেয়, কওমি মাদরাসায় ছাত্র-শিক্ষিকরা রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
বাবুনগরীর প্রেসসচিব মাওলানা ইনআমুল হাসান ফারুকী হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার ভিডিও বার্তার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘোষণার আগে হাটহাজারী মাদরাসায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, গত সোমবার সমঝোতার আলোচনার পর বিভিন্ন পর্যায় থেকে আবার বসার প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজত। গতকালও ঢাকায় একটি আলোচনার চেষ্টা করা হয়। এসব আলোচনায় প্রধান তিনটি শর্ত না মানলে হেফাজতের সঙ্গে কোনো বৈঠক হবে না বলে কড়াভাবে জানানো হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ঢাকায় ১৯ জন কেন্দ্রীয় নেতাসহ সারা দেশে হেফাজতের চার শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


