১৫ হাজার হজযাত্রীর পাসপোর্টই জমা হয়নি

১৫ হাজার হজযাত্রীর পাসপোর্টই জমা হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, কারও গাফিলতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অসহযোগিতায় হজ পালনের কার্যক্রম বিঘ্নিত হলে তা বরদাশত করা হবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোমবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানের প্রধান কার্যালয়ে হজসংক্রান্ত জরুরি সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় জানানো হয়, এ বছর বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের মধ্যে ৬২ হাজার ৫৪৭ জন ইতিমধ্যে সৌদি আরব চলে গেছেন।

মন্ত্রী বলেন, স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে হজ পালনের ব্যবস্থা করতে সরকার সর্বাত্মক প্রয়াস গ্রহণ করেছে। তবে, এখনো প্রায় ১৫ হাজার হজযাত্রীর ভিসার জন্য পাসপোর্ট হজ অফিসে জমা হয়নি। ১৬টি এজেন্সি এখনো একজনও হজযাত্রী পরিবহন করেনি। অন্যদিকে অভিযোগ এসেছে, অনেক হজ এজেন্সি হাজিদের জন্য বাড়িভাড়া করেছে ২০ আগস্টের পর। তিনি বলেন, এটি সত্য হলে ২০ আগস্টের পর যে চাপ তৈরি হবে, তা সামাল দিতে প্রয়োজনীয় এয়ারক্রাফট পাওয়া যেমন দুষ্কর হবে, তেমনি অতিরিক্ত স্লটও পাওয়া যাবে না। তাই বিপর্যয় এড়াতে ভিসা হয়েছে, এমন হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠাতে হজ এজেন্সিগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, হজযাত্রীর অভাবে ইতিমধ্যে বিমানের ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে; যা বিমানকে আর্থিক ক্ষতি ও ইমেজ সংকটের মুখোমুখি করেছে। এর দায় বিমানের ছিল না। তবুও ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার হিসেবে হজযাত্রীদের পরিবহন নিশ্চিত করতে বিমান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ জন্য হজ ফ্লাইটের সময়সীমা ২৬ আগস্ট থেকে বাড়িয়ে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত করতে সৌদি আরবের ‘জেনারেল অথোরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন’-এর প্রতি অনুরোধপত্র প্রেরণ করা হবে। নতুন পাওয়া ১৪টি স্লটের অতিরিক্ত আরও ৭টি স্লট পরিচালনা করতে আগস্ট থেকে বিমানের আবুধাবির দুটি, ব্যাংককের তিনটি, দোহারের পাঁচটি, দুবাইয়ের একটি, কাঠমান্ডুর দুটি, কুয়ালালামপুরের একটি, লন্ডনের তিনটি, মাসকাটের একটি, রিয়াদের তিনটি এবং দাম্মামের দুটি ফ্লাইট বাতিল অথবা কমিয়ে আনা হবে। সেই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে লিজকৃত একটি এয়ারক্রাফট ২০ আগস্ট থেকে হজযাত্রী পরিবহন করবে বলে তিনি জানান।

সভায় বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম গোলাম ফারুক, বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) এনামুল বারী, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জিয়াউল হক, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দেক আহমেদ, হজ ক্যাম্পের পরিচালক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *