২২ হাউজিং কোম্পানির কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা

পাথেয় রিপোর্ট : পূর্বাচল হাউজিং প্রকল্পের পাশে গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার ২২টি আবাসন কোম্পানি কর্তৃক জলাশয়, খাল-বিল ও নিচু জমি অবৈধভাবে ভরাট কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে এসব হাউজিং কোম্পানি যাতে সেখানকার জলাশয়, নিচুজমি ও পুকুর অবৈধভাবে মাটি ভরাট ও দখল না করতে পারে সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দুই মাসের মধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে এ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, কালিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বলা হয়েছে।এ সংক্রান্ত একটি আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেয়।

স্থিতিবস্থা জারি করা হয়েছে সেসব কোম্পানি হলো: এজি প্রপার্টিজ লিমিটেড, ইউনাইটেড পূর্বাচল ল্যান্ডস লিমিটেড, নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড, বিশ্বাস বিল্ডার্স লিমিটেড, রূপায়ন ল্যান্ডস লিমিটেড, নীলাচল হাউজিং লিমিটেড, বাগান বিলাস, আদর্শ আইডিয়াল লিমিটেড, তেপান্তর হাউজিং, মেট্টোপলিটন ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ হাউজিং, মঞ্জিল হাউজিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, শিকদার রয়েল সিটি, কপোতাক্ষ গ্রীন সিটি, ডিভাইন হোল্ডিং লিমিটেড, স্বর্ণ ছায়া রিয়েল এস্টেট, শতাব্দি হাউজিং, ভিশন-২১ এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, ওশান হ্যাভেন লিমিটেড, এস.এফ.এল চন্দ্রিমা লিমিটেড, গ্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল, নর্থ-সাউথ হাউজিং এবং ফেয়ার ডিল শিপিং লিমিটেড।

স্থিতাবস্থা জারির পাশাপাশি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কালীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইওএনও) ও কালীগঞ্জ থানার ওসিকে দুই মাসের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন হলফনামা আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এসব কোম্পানি কর্তৃক অবৈধভাবে মাটি ভরাট ও দখল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন দাখিল করেন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পূরবী সাহা।

শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ব্যাতীত জলাশয়, খাল-বিল ও পুকুর ভরাট করা যাবে না। কিন্তু কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই এসব কোম্পানি অবৈধ দখল ও মাটি ভরাট কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

এছাড়া সাইনবোর্ড লাগিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘প্রশাসনের সামনে কিভাবে এসব অবৈধ দখল ও ভরাট কার্যক্রম চলে? তারা কি কোনো পদক্ষেপ নেয় না। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ নভেম্বর রিটকারী এই সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ১৬ টি আবাসন কোম্পানি কর্তৃক অবৈধভাবে মাটি ভরাট ও দখল কার্যক্রমের ওপর স্থিতিবস্থা জারি করেছিলো। ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৬টি হাউজিং কোম্পানির কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা জারির পাশাপাশি জলাশয়, নিচু জমি ভরাট ও দখলের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করে আদালত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *