পাথেয় রিপোর্ট : ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে আপনারা তো ইনশাআল্লাহ হেরে যাচ্ছেন। এরপর জনগণ আপনাদের কিভাবে দেখবে সেই কথাটাও একটু ভাবুন। আপনাদের নেতা-কর্মীদের জনগণকে মোবারকবাদ দেওয়ার সুযোগ করে দিন। এরপর ৩১ ডিসেম্বর সাধারণ জনগণ ও অন্যান্য নেতা-কর্মীরা যেন তাদের মোবারকবাদ দিতে পারে, নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে ঠিক তেমন কিছু কাজ সরকারকে করে যান।’
৯ ডিসেম্বর সোমবার বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদের আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রাজনীতি ও মানবাধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. কামাল হোসেন এ সময় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘৫ জানুয়ারির মতো ভোট এ দেশে আর হতে দেয়া হবে না বলেই আমরা এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এই নির্বাচনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। ভোটে কারচুপির চেষ্টা হলে ১৮ কোটি মানুষকে নিয়ে রূখে দাঁড়াব’।
মানুষ ভোট দিতে পারবে আশা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘মানুষ ভোট দিতে না পারলে স্বাধীনতা থাকবে না। আমরা সবাই ভোট দেব’।
তিনি এ সময় সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লায় নেমে যান। ভোট চাওয়া অপরাধ নয়। সবাই ঘর থেকে বের হয়ে পরিবর্তনের পক্ষে জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চান। বাধা দিলে রুখে দাড়ান।’
জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ভোটাধিকার না দেওয়ার শতভাগ ব্যর্থতা জনগণের নিজের। দেশের মালিক ১৮ কোটি মানুষ। এর অর্ধেকও যদি একত্র হয়ে মালিকানা নিজেরা ভোগ করতে চাই, তবে কেউ তা রুখতে পারবে না।
বর্তমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ড. কামাল বলেন, ‘এরা বিনাভোটে নির্বাচিত হলেও এখনো একজন সংসদ সদস্য হিসেবেই বিবেচিত। তাই তাদের অবস্থান থেকে এখনো কিছু করতে পারেন তারা। কারণ আর কয়েকদিন পর তো সাধারণ পাবলিকে পরিণত হয়ে যাচ্ছে এসব সংসদ সদস্যরা। তাই যাবার আগে প্লিজ একটা কিছু করে যান। কারণ আপনারা তো বলছেন, দেশের জন্য অনেক উন্নয়ন করেছেন। তাই বিনাবিচারে এভাবে যারা মারা যাচ্ছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিন, কিছু একটা করুন। তখন জাতিকে বলতে পারবেন, হ্যাঁ আমরা বিনাবিচারে হত্যার ব্যাপারে ক্ষমতার শেষ সময়ে হলেও পদক্ষেপ নিয়েছি।’
ড. কামাল বলেন, ‘বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড মহামারি আকারে বাড়ছে। যা মানুষের মনে উদ্বেগ উতকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণে এসব হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। কেন দেশে মানবাধিকার লংঘন কিংবা গুম খুন আরো বাড়ছে তার তদন্ত হওয়া উচিত এবং এ জন্য সরকারের জবাবদিহি করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার নিশ্চিত করা সরকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব কর্তব্য। ৪৭ বছর পরও অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এটা দেখে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারছি না।’
প্রবীণ এই আইনজীবী সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে আবেদন করছি। আপনারা সব ক্ষমতা রাখেন। এটি কেন হলো তা বের করুন। আপনারা না পারলে আমাদের বলুন, আমরা সহযোগিতা করতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। যে কোনো সরকারের এক নম্বর এজেন্ডা হওয়া উচিত বিনা বিচারে হত্যা বন্ধ করা।’
সরকারকে উদ্দেশ করে ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘সুযোগ কাজে লাগান। আপনাদের তো আয়ু শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর ২০ দিন আছে। এই ২০ দিনের মধ্যে সময়কে কাজে লাগান। আপনারা যদি কাজ করার সুযোগ চান, আমাদের বলেন, আমরা সাহায্য করব। কিছু একটি করুন। আল্লাহর ওয়াস্তে এই সুযোগগুলো নেন। আর কয়েক দিন পর তো সাধারণ মানুষ হয়ে যাবেন। আপনাদের যেন ৩১ তারিখ মোবারকবাদ দিতে পারি সে সুযোগ দেন। কিছু ভালো কাজ করে না গেলে পরে আফসোস করবেন এই বলে যে সুযোগ পেয়েও ভালো কাজটি করলাম না’।
এ আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন- সাবেক সচিব মোফাজ্জ্বল করিম, শেখ শহীদুল ইসলাম, ড. মো. শাহজাহান, ড. ফরিদউদ্দিন ফরিদ, অধ্যাপক ড. অমিত আজাদ, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন তালুকদার মনিরুজ্জামান।


