পাথেয় রিপোর্ট : ৮০ বয়সোর্ধ অশীতিপর এক বৃদ্ধ লোক। নাম জয়নাল আবেদিন। গাঁয়ের লোকেরা তাকে সাহেরার বাপ বলে ডাকত। সবাই তাকে চেনেও এ নামেই। সোজা সরল লোকটি কারো সঙ্গে তেমন কোনো কথা বলতেন না। একাকী নিভৃতচারিতাকেই বেছে নিয়েছিলেন নিজের জন্য। প্রায় ৩২ বছর আগে তাকে প্রথম দেখা যায়, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজারে। তারপর থেকেেই অনেকে তাকে পীর বানিয়ে ব্যবসা করতে থাকে। কথিত পীর সাজিয়ে এই আলাভোলা মানুষটির নামে হাতড়ে নেয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সাসহ অনেক কিছুই। কিছু দুষ্টুলোক মিলে দীর্ঘদিন যাবত এ কাজ করে আসছিল।
গত সোমবার মারা যান জয়নাল আবেদিন। কিন্তু এলাকার দুটি লোক জয়নালকে দাফন না করে তার নামে নানা অলৌকিক ঘটনা প্রচার করতে থাকেন। তাকে পীর বানানোর জন্য মিথ্যা অলৌকিক খবর বানিয়ে প্রচার করে বলতে থাকে, ফেরেশতারাই তাকে দাফন করবেন। অবশেষে লাশে পচন শুরু হলে সামাজিক চাপে বৃহস্পতিবার রাতে বাবুরহাটের একটি ঘরের মধ্যে দাফন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয়নাল আবেদিন উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের মো. মোকসেদ সরদার বাড়িতে একটি ঘরের মধ্যে সোমবার মারা যায়। কিন্তু তিনদিন ধরে তাকে দাফন না করে উদ্ভট সব কথাবার্তা ছড়াচ্ছিল কিছু দুষ্টু প্রকৃতির স্বার্থান্বেশী লোক।
পরে সামাজিক চাপে তাকে দাফন করেন, এলাকার আবুল হাসনাত মিয়ার ছেলে তমাল জমাদ্দার (৫২) ও আ খালেক সরদারের ছেলে মো. মোকসেদ সরদার (৪৯)। তারা উভয় বাবুরহাটের বাসিন্দা।
এ বিষয়ে তমাল জমাদ্দারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি জয়নাল আবেদিনের (সাহেরার বাপ) সঙ্গে ১৭-১৮ বছর থেকে তার খেদমত করেছেন। তিনি জয়নাল আবেদিনের অনেক অলৌকিক কারামতি দেখেছেন। যেসব ব্যাক্তির সন্তানাদি হয় না, যাদের নরমাল ডেলিভারি হয় না। তাদের পানি পড়া দিয়ে সমস্যার সমাধা করতেন জয়নাল। তার কাছে দূরদেশ থেকে মানুষ আসত এবং অনেকেই উপকার পেতেন। অনেক প্রমাণ তার কাছে আছে।
তিনি বলেন, জয়নালের কথা মতোই তাকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে দাফন হওয়ার কথা জানতে পারি।
তমাল জমাদ্দার আরও বলেন, আমাকে মারা যাওয়ার আগে তিনি (জয়নাল আবেদিন) বলেছেন, তিনি কবে মারা যাবেন। তাকে জানাজা ছাড়া কবর দেয়ার জন্য বলেছেন। মকসেদ সরদারের ঘরের পাশে খালি একটি থাকার ঘর আছে সেখানে কবর দেয়ার জন্য বলে গেছেন। তাই তাকে সেখানে কবর দিয়েছি। তার দাফন-কাফন ফেরেশতারাই করেছে। তার এসব উদ্ভট কথাবার্তায় অবশ্য এলাকাবাসীর মন পড়েনি। তারা তমাল ও মকসেদের ধূর্ততাকে ধরে ফেলেন।
এলাকাবাসী জানান, তমাল ও মকসেদ দুষ্টু প্রকৃতির লোক। তমাল পেশায় একজন জেনারেটর ব্যবসায়ী। ২০০৮ সালে এ ব্যবসা বন্ধ করে দেন। পরে তারা জয়নাল আবেদিনের আশপাশের মানুষকে ধরে নিয়ে এনে তাদের কাছ থেকে মানতের দ্রব্যসামগ্রী ও টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়ার কাজ করত।
এলাকাবাসী আরও বলেন, জয়নাল আবেদিন ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন। তার অলৌকিক ক্ষমতা আছে বলে বাবুরহাট বাজারে কিছু ব্যক্তি জয়নালের প্রচার করতে থাকে। শুধু তমাল বা মকসেদ না, এদের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। তাদের পেশা মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া।
নজরুল নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জয়নাল আবেদীন একজন সাধারণ মানুষ। এলাকায় তার অনেক ভক্ত ছিল। ভক্তরা পীরের নির্দেশ রক্ষা করেছেন।


