৪ নভেম্বরের পরেই নির্বাচনি তফসিল!

৪ নভেম্বরের পরেই নির্বাচনি তফসিল!

পাথেয় রিপোর্ট : নির্বাচন আসন্ন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দল গোছাতে ব্যস্ত প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। ছোট দলগুলোতেও সমান ব্যস্ততা। চারদিকে পুরোপুরি নির্বাচনি আমেজ। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশী ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন। তাই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা। আগামী ১ নভেম্বর সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এরপর ৪ নভেম্বর কমিশন সভার আহ্বান করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, এই কমিশন সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করা হবে। তফসিল চূড়ান্ত করার পর, সভা শেষে সিইসি ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তিনি। প্রথা অনুযায়ী, সিইসি জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে তফসিল ঘোসণা করেন। তাহলে সেই ভাষণেই কি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে? এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। ভাষণের লিখিত কপি প্রস্তুত করে এরই মধ্যে সিইসির কাছে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন বলে কথা। সবার আগ্রহের পারদ এখন সংশ্লিষ্ট সব কিছুতেই। তাই এ ভাষণই কি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা কি না তাই এখন অপেক্ষার।

যদিও বিটিভি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এখনো এ ব্যাপারে লিখিত কোনো নির্দেশ পায়নি। আর তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ নিয়ে সরাসরি ইসির কোনো কর্মকর্তা মুখ খোলেননি। তবে সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের যে সময়সীমা রয়েছে, তাতে এই সময়েই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের বাদ্যি শুরু হওয়ার কথা।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার আগে ৩১ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বৈঠক ডেকেছে ইসি। রাষ্ট্রপতির পরামর্শক্রমে সিইসি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। অন্যদিকে চলমান দশম সংসদের অধিবেশনকেই শেষ অধিবেশন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ৪ নভেম্বরের কমিশন সভা শেষে তফসিল ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনাই হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও সংসদীয় দলের (পার্লামেন্টারি পার্টি) যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সভায় নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের দলগত সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

কবে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে- এমন প্রশ্ন করা হলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “তফসিল ঘোষণা কবে করা হবে, তা এখনই বলা মুশকিল। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) স্যার আমাদের আজকেই বলেছেন, ‘১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জরুরিভাবে একটি কমিশন সভার আহ্বান করা হবে। ওই কমিশন সভার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে।’”

‘তবে কত তারিখে কমিশন সভা হবে, তা আমি নিশ্চিত নই। আর ভোট গ্রহণের তারিখ কবে, তা এখনো ঠিকই হয়নি। তবে কমিশন সভার আগে ঠিক করা হয়ে যাবে,’ যোগ করেন রফিকুল ইসলাম।

কমিশন সভার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘৪ নভেম্বর একটি কমিশন সভার আহ্বান করা হয়েছে।’

তবে তফসিল ঘোষণা কত তারিখে করা হবে, তা জানেন না বলেও জানান মোখলেসুর রহমান। তিনি আরো বলেন, ‘আর তফসিল ঘোষণার সময় জাতির উদ্দেশে সিইসি যে ভাষণ দেবেন, সেটা প্রস্তুত করে তাঁর কাছে দেওয়া হয়েছে। জাতির সামনেই তিনি ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করবেন।’

এদিকে, গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবের দপ্তর থেকে বিটিভি মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে কে. এম. নুরুল হুদার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য বলা হয়েছে বলে ইসির দুজন যুগ্ম সচিব গতকাল বুধবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে বিটিভির মহাপরিচালক এস এম হারুন উর রশীদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না, আমি জানি না। পাঠালে পেয়ে যাব; কিন্তু এখনো পাইনি। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশন তথ্য মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দিতে পারে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *