পাথেয় রিপোর্ট : মহাজোটের বিশাল শরীক শ্রেণিদের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৫৪টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। এই ৫৪ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী থাকছে না বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টিসহ জোটের অন্যান্য দলগুলো এই আসনে প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়বে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ৫৪ আসনকে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপিও বড় ধরনের ছক অাঁকছে। যে কোনো উপায়ে এই আসনগুলো তারা বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে বলে জানা গেছে।
সূত্রটি বলছে, এবার সরাসরি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর তুলনায় জাতীয় পার্টি বা মহাজোটের অন্যান্য দলের প্রার্থীর সঙ্গে লড়ে সহজে জেতার সম্ভাবনা প্রবল। তাই তারা এই কৌশল হাতে নিয়েছে।
এদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে শরিকদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন রাখার কথা বলা হলেও শেষমেশ ৫৪টি আসন ফাঁকা রেখে বাকিগুলোতে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফাঁকা রাখা হয়নি জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের পটুয়াখালী-১ আসনও।
এবার আওয়ামী লীগের কাছে ১৪ দলের শরিকরা শুরুতে ১৬৯ আসন, জাতীয় পার্টি ১০০টি আসন চেয়েছিল। পরে আলোচনায় যোগ দিয়ে যুক্তফ্রন্ট চায় ৩৮টি আসন। কিন্তু সময় গড়িয়েছে আর একের পর এক দাবি কমিয়েছে দলগুলো।
বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছাড়া আওয়ামী লীগের বাইরে জাতীয় পার্টির ৩৪ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি ছয় জন, জাসদের দুই পক্ষে পাঁচ জন, জেপি এবং তরীকত ফেডারেশনে দুই জন এবং বিএনএফের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। বাকিরা নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে, যাদের সিংহভাগ পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
রবিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র তুলে দেয়া হয় প্রার্থীদের। আর এসব চিঠি গুনে শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে ২৪৫ আসনেই গেছে চিঠি। এর মধ্যে ১০টি আসনে দুই জনকে দেয়া হয়েছে চিঠি। অর্থাৎ চিঠি পেয়েছেন ২৫৫ জন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবশ্য জানিয়েছেন, এই চিঠি চূড়ান্ত মনোনয়ন নয়। সোমবার জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে।
যেসব আসন ফাঁকা রেখেছে আ.লীগ
রংপুর বিভাগে মোট ১২টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে শরিকদের জন্য। এগুলো হলো: পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৩ ও ৪, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-১ ও ৩, গাইবান্ধা-১ এবং কুড়িগ্রাম ১, ২ ও ৩।
রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি আসনের মধ্যে ফাঁকা রাখা হয়েছে ছয়টি আসন। এর মধ্যে বগুড়াতেই আছে পাঁচটি। এগুলো হলো: বগুড়া-২, ৩, ৪, ৬ এবং ৭। এই বিভাগে এর বাইরে কেবল রাজশাহী-২ আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।
খুলনা বিভাগে ৩৬টি আসনের মধ্যে ফাঁকা রাখা হয়েছে কেবল তিনটি। এগুলো হলো কুষ্টিয়া-২, নড়াইল-১ এবং সাতক্ষীরা-১।
বরিশাল বিভাগে ২১টি আসনের মধ্যে ফাঁকা রাখা হয়েছে চারটি। এগুলো হলো বরিশাল-৩ ও ৬ এবং পিরোজপুর-২ ও ৩
ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের মধ্যে ফাঁকা রাখা হয়েছে পাঁচটি আসন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলাতেই আছে চারটি। এগুলো হলো: ময়মনসিংহ-৩, ৪, ৫ এবং ৮। আর জামালপুর-২ আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগের ৭০টি আসনের মধ্যে ফাঁকা রাখা হয়েছে আটটি। এগুলো হলো: কিশোরগঞ্জ-৩, মুন্সিগঞ্জ-১, ঢাকা-৪, ৬, ৮, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৫ এবং ফরিদপুর-২।
সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে পাঁচটি ফাঁকা। এগুলো হলো: সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-২ ও ৫, মৌলভীবাজার-২ এবং হবিগঞ্জ-১।
চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৮টি আসনের মধ্যে ফাঁকা ১১টি। এগুলো হলো: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, কুমিল্লা-৮, চাঁদপুর-৫, ফেনী-১ ও ৩, লক্ষ্মীপুর, ১ ও ২ এবং চট্টগ্রাম-২, ৫, ৮ এবং ১৬।


