দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত হলো শাইখুল ইসলাম আল্লামা মাসঊদ রচিত ‘মিযাজে শরীআত’

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত হলো শাইখুল ইসলাম আল্লামা মাসঊদ রচিত ‘মিযাজে শরীআত’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ছাত্র, ভক্তবৃন্দ, মুতাআল্লিকীন ও শুভানুধ্যায়ীদের বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) রচিত অভূতপূর্ব গ্রন্থ ‘মিযাজে শরীআত।’

৩৫০ টাকা মলাট-মূল্যের এ গ্রন্থটির প্রকাশনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম–এর সহকারী সম্পাদক য. সামনূন সূত্রে জানা যায়, কোভিড-১৯ মহামারীর পূর্বেই ‘মিযাজে শরীআত’ গ্রন্থটির রচনা সমাপ্ত হয়েছিল। কিন্তু বেশ কয়েকজন পেশাদার মুদ্রাক্ষরিক গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপির পাঠোদ্ধারে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে লকডাউন চলাকালে এই ফুরসতে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) পাণ্ডুলিপির কিছু অংশের ভিডিও প্রতিলিপি তৈরি করে দেন, যেন তা থেকে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে কম্পিউটার–টাইপড কপি তৈরি করা যায়। কিন্তু কারিগরি জটিলতায় তা-ও আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি৷ অতঃপর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে হাতে লেখা আরেকটি প্রতিলিপি তৈরি করে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘সব কাজ শেষে প্রকাশের জন্য গ্রন্থটি বছর-তিনেক যাবতই প্রস্তুত ছিল। কিন্তু আমার জানামতে শাইখুল ইসলাম আল্লামা মাসঊদ (দা.বা.) পরিকল্পনা করেছিলেন, গ্রন্থটি এবং এর আরবী অনুবাদ একই সাথে প্রকাশ করবেন। তবে প্রাথমিকভাবে যিনি আরবী অনুবাদ ও ব্যাখ্যা রচনার কাজ করছিলেন, এই জ্ঞানতাপস লেখক আলেমে দ্বীন বিদেশে অভিবাসন গ্রহণ করায় তা আর বেশিদূর এগোয়নি। পরবর্তীতে নতুন পরিকল্পনা হলেও আরবী অনুবাদে দীর্ঘসূত্রিতা; এদিকে শাইখুল ইসলাম আল্লামা মাসঊদ (দা.বা.)-এর স্বাস্থ্যের আশঙ্কাজনক অবনতি, ফলে অবশেষে দ্রুত মূল গ্রন্থটি এককভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়, যা আজ আমাদের সম্মুখে। আলহামদুলিল্লাহ।’

পাথেয় পাবলিকেশন্স প্রকাশিত গ্রন্থটি সংগ্রহ করতে প্রতিষ্ঠানটির ০১৭২৬২২৭১২৬ –এই নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মিশেলে অঙ্কিত নান্দনিক প্রচ্ছদের ১৯১ পৃষ্ঠার গ্রন্থটির মলাট উল্টালে চোখে পড়ে ১ম ফ্ল্যাপের এই বক্তব্যটি, যা গ্রন্থটির ‘শরীআত’ অংশটিকে ধারণ করছে বলে প্রতীতি হয়—

ইসলাম হলো জীবন্ত এক জীবনাদর্শ। এ বুদ্ধিজাত তত্ত্বগত কোনো দর্শন নয়, যার স্থান হলো মস্তিষ্কের কোনো নিভৃত কোণ, বা গ্রন্থাগারের নিরব প্রকোষ্ঠ। এ তো হলো একই সাথে আকীদা ও আমল, প্রত্যয় ও বাস্তবায়ন, চরিত্র ও নৈতিকতা, আবেগ ও উপলব্ধি, সচেতনতা ও সুরুচিতার মিশ্রণ ও সমন্বিত এক বিষয়। মানুষকে সে নয়া এক ছাঁচে ঢেলে নিতে চায়, জীবনকে সে নতুন এক রঙে রাঙায়।

এরপর রয়েছে সূচীপত্র, লেখকের ‘নিবেদন’ ও ধারাবাহিক আলোচনা। সমাপ্তিতে মলাটের ২য় ফ্ল্যাপে রয়েছে সংক্ষিপ্ত লেখক-পরিচিত।

প্রচ্ছদের বিপরীত পাশে রয়েছে একটি আলোচনার কিয়দাংশ, যা গ্রন্থটির ‘মিযাজ’ অংশটিকে প্রকাশ করছে বলে প্রতীয়মান হয়—

“আল্লাহ তাআলা মনুষ্যজাতিকে অপার সম্ভাবনার অধিকারী করে সৃষ্টি করেছেন। সে তার শক্তি ও কালকে অতিক্রম করার অমিততেজে প্রদীপ্ত। মানুষের চেতনস্বভাবে দুটো প্রবণতা সে এমন ধারণ করে, যা আর কারো মাঝে নেই।

একটি হলো অজ্ঞেয়কে জ্ঞাত করার সীমাহীন কৌতূহল এবং সেই কৌতূহল উদ্দীপনায় যেকোনো ঝুঁকি নেয়ার অপরিমেয় মানবশক্তি সে তার মাঝে ধারণ করে। অজ্ঞেয়কে জ্ঞাত করতে, অজানাকে আয়ত্তে আনতে সে জেনেবুঝে যেকোনো ঝুঁকি গ্রহণ করতে পিছপা হয় না। অজ্ঞেয়কে জ্ঞাত করার, অধরাকে ধরার বিপুল অন্বেষা-কাতরতায় শঙ্কাকুল জঙ্গমে আহবে ঝাঁপিয়ে পড়তেও তার দ্বিধা হয় না। সমুদ্র ঊর্মিমালার টুঁটি চেপে ধরতেও সে শঙ্কাকাতরতায় ভোগে না। এই অন্বেষা কৌতূহল এমন এক মহাশক্তি, যা মানুষকে নব নব আবিষ্কারে প্রণোদনা দেয়। এই বোধই তার উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।”

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য লেখকের কলমেই তুলে ধরা হলো লেখকের অনুভূতি—

Related Articles