পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনাভাইরাস এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের ফলে এখনকার যে কূটনীতি তা রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “এখনকার ডিপ্লোম্যাসি পলিটিক্যাল নয়, ইকোনমিক হবে। অর্থাৎ সব দূতাবাসকে রপ্তানি বাণিজ্য, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, আমরা কী রপ্তানি করতে পারি বা কোথা থেকে আমরা বিনিয়োগ আনতে পারি- এসব দিকে দৃষ্টি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
রবিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এই মর্যাদা কার্যকর করার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন কমিটি করে কোন খাতে কী কী করণীয় সেগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তবে কোভিডের কারণে আমাদের দুই বছর সময় নিতে হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশ কার্যকর করবো, ২০২৪-এ করার কথা ছিল।”
শেখ হাসিনা বলেন, “করোনাভাইরাস মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, স্যাংশন-পাল্টা স্যাংশন; এসবের ফলে বিশ্বব্যাপী আজ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে। নিজেদের মন্দার দেশ হিসেবে ঘোষণা করছে। আমরা কিন্তু এখনও সে পর্যায়ে যাইনি। আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা রপ্তানিযোগ্য কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। সেটাকে বহুমুখী করার কথা, আমি বার বার এ কথা বলে যাচ্ছি, এখনও বলছি, যত বেশি পণ্য বহুমুখী করতে পারব; যত বেশি নতুন নতুন বাজার পাব, তত বেশি পণ্য রপ্তানি করতে পারব। মানুষের যাতে কর্মক্ষমতা বাড়ে সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।”
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফবিসিসিআই সভাপতি জসীম উদ্দিন এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান। অনুষ্ঠানে দেশের ব্যবসায়ী নেতা, রপ্তানিকারক, মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনসাধারণও উপস্থিত ছিলেন।


