রমযানের কান্তিময়তা | মুফতি রিয়াজুল ইসলাম

রমযানের কান্তিময়তা | মুফতি রিয়াজুল ইসলাম

সামনে দাঁড়িয়ে পবিত্র মাহে রমজান। আল্লাহ তাআলার অধিক থেকে অধিকতর নৈকট্য লাভের সেরা সময়। মোমিন বান্দার আখিরাত অর্জনের মাস। কুরআন নাযিলের মাস।

সওম-শব্দটি আরবী। এর প্রতিশব্দ সিয়াম। ফার্সিতে রোযা বলা হয়। যার অর্থ বিরত থাকা।

ইসলামি পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকাকে সওম বা রোযা বলে।
সিয়াম ও সওমের মাঝে পার্থক্য : ফিকহ ও হাদিসের গ্রন্থগুলোতে ধর্মীয় পরিভাষা হিসেবে সিয়াম ও সাওমকে সমার্থবোধক বলে গণ্য করা হয়। তবে এ দুটির মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য বিদ্যমান। সিয়াম ও সাওম দুটি শব্দেরই অর্থ হলো আল-ইমসাক বা বিরত থাকা।
কুরআনুম মাজিদে আটটি স্থানে সিয়াম শব্দটি এসেছে (২:১৮৩; ২:১৮৭; ২:১৯৬; ৪:৯২: ৫:৮৯; ৫৮:৪; ৫:৯৫)। প্রতিটি স্থানে এটি দ্বারা সুনির্দিষ্ট এবাদত অর্থাৎ আমাদের প্রচলনে রোযা বলতে যে এবাদত তাকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সিয়াম এর অর্থ হলো পানাহার (এবং রোযা ভঙ্গকারী কাজগুলো) হতে বিরত থাকা। আল-কুরআনে মাত্র একটি স্থানে সাওম শব্দটি এসেছে। আর তা হলো সূরা মারয়ামের ২৬ নং আয়াতে।

আল্লাহ তাআলা মহান নাবী ঈসা আলাইহিস সালাম- এর সম্মানিত মাতাকে সম্বোধন করে বলছেন, তুমি তা খাও আর পান কর এবং তোমার চক্ষু শীতল কর। কোনো মানুষ দেখতে পেলে বলবে আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্য সাওম পালনের মান্যত করেছি, তাই আমি আজ কোন মানুষের সঙ্গে কথা বলবো না। এখানে সাওম দ্বারা পানাহার হতে বিরত থাকার কথা বুঝানো হয়নি; কারণ আয়াতের শুরুতে তাকে পানাহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বরং সাওম এর অর্থ হলো কথা থেকে বিরত থাকা। শিশুপুত্র ঈসাকে নিয়ে মা মরিয়ম যখন নিজ গোত্রের কাছে যাবেন তখন লোকজন নানা কটু প্রশ্ন করবে। সেসবের প্রতিক্রিয়ায় আল্লাহ তাকে চুপ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে, সাওম হল সকল প্রকারের বেহুদা কথাবার্তা যথা অনর্থক কথা, মিথ্যা কথা প্রভৃতি হতে বিরত থাকা। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সিয়ামের স¤পর্ক মূলত পাকস্থলির সঙ্গে আর সাওমের স¤পর্ক প্রধানত জিহবা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঙ্গে। পাকস্থলির চাহিদা তথা পানাহার ও জিহ্বা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চাহিদা তথা বেহুদা কথাবার্তা এবং কাজকর্ম বর্জনের মাধ্যমে সিয়াম ও সাওমের সমন্বয় করা সম্ভব। আর এভাবে পরিপূর্ণ রোযা পালন করা সম্ভব হবে।

একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম ও সাওমের অপূর্ব সমন্বয় সাধন করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যার ভিত্তিতে কাজ করা ত্যাগ করল না তার পানাহার বর্জন করায় আল্লাহর কোন দরকার নেই। এখানে শুধু মিথ্যা বর্জনের কথা বলা হয়নি; বরং মিথ্যার পাশাপাশি মিথ্যার ভিত্তিতে কাজ পরিত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এটি অভ্যাস করতে পারলে পুরো জিন্দেগি পরিশুদ্ধ হতে বাধ্য। অর্থাৎ পানাহার বর্জনের মাধ্যমে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি মিথ্যা কথা ও তার ভিত্তিতে কাজ পরিত্যাগ করার মাধ্যমে তথা সাওম সাধনার মাধ্যমেই রোযার প্রকৃত উদ্দেশ্য হাসিল করা সম্ভব। আর এভাবেই অর্জিত হবে তাকওয়া। এর পুরস্কার কেবল আল্লাহই দান করবেন। তাই হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে: আ¯সাওমু লি ওয়া আনা আজযি বিহি।
২য় হিজরীর শাবান মাসে মদীনায় রোযা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয় ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হলো যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী হও। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)।
সূরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসকে পায় সে যেন রোযা রাখে’।

পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা স¤পর্কে হাদিসের কিতাবগুলোতে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর ভেতর থেকে কিছু হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো-

প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)


নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোযাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে


অপর হাদিসে এসেছে, হযরত শাহ ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোযাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোযা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রাতে এবাদত করে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)

হাদিসে আরও এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, রোযা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য। তবে রোযা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব।


রোযা (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ রোযা রেখে অশ্লীল কথাবার্তায় ও ঝগড়া বিবাদে যেন লিপ্ত না হয়। কেউ তার সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোযাদার


অপর হাদিসে এসেছে, রোযা (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ রোযা রেখে অশ্লীল কথাবার্তায় ও ঝগড়া বিবাদে যেন লিপ্ত না হয়। কেউ তার সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোযাদার। সেই মহান সত্তার কসম যার করতলগত মুহাম্মদের জীবন, আল্লাাহর কাছে রোযাদারের মুখের গন্ধ কস্তুরীর সুঘ্রানের চেয়েও উত্তম।

অন্য হাদিসে এসেছে, রোযাদারের খুশির বিষয় ২টি- যখন সে ইফতার করে তখন একবার খুশির কারণ হয়। আর একবার যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোযার বিনিময় লাভ করবে তখন খুশির কারণ হবে। (বুখারী)।

অপর একটি হাদিস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোযা এবং কোরআন (কেয়ামতের দিন) আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে (রমজানের) দিনে পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি। তাই আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতএব উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে। (বায়হাকী)

হাদিস শরীফে আরও এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রমজানের প্রথম রাত আসে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতপর এর কোনো দরজাই খোলা হয় না। বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। অতপর এর কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না।

অন্য হাদিসে এসেছে, এ মাসে এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে ভালোর অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! থামো।

অপর এক হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে দোযখ থেকে মুক্তি দেন। আর এটা এ মাসের প্রতি রাতেই হয়ে থাকে। (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, যখন রমজান মাস উপস্থিত হতো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত কয়েদিকে মুক্তি দিতেন এবং প্রত্যেক প্রার্থনাকারীকে দান করতেন। (বায়হাকী)

হাদিসের কিতাবে আরো পাওয়া যায়, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি (রোযা রেখেও) মিথ্যা কথা বলা ও খারাপ কাজ পরিত্যাগ না করে তবে তার শুধু পানাহার ত্যাগ করা (অর্থাৎ উপবাস ও তৃষ্ণার্ত থাকা) আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারী)

হযরত সালমান ফারসী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানবম-লী! তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান মাস, মোবারক মাস। এটি এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা এই মাসের রোযাগুলোকে করেছেন (তোমাদের ওপর) ফরজ আর রাতে নামাজ পড়াকে তোমাদের জন্য করেছেন নফল। এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে ১টি নফল আমল করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো। এটা ধৈর্য্যের মাস। আর ধৈর্য্যের সওয়াব হলো বেহেশত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস যে মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে তা তার জন্য গুনাহ মাফের এবং দোযখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার ছওয়াব হবে রোযাদার ব্যক্তির সমান। অথচ রোযাদার ব্যক্তির সওয়াব কমবে না। এসব শুনে সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো এমন সামর্থ রাখে না যে রোযাদারকে (তৃপ্তি সহকারে) ইফতার করাবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ পাক এই সওয়াব দান করবেন যে রোযাদারকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দিয়ে, অথবা একটি খেজুর দিয়ে, অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাকে হাউজে কাউসার থেকে পানি পান করাবেন যার পর সে পুনরায় তৃষ্ণার্ত হবে না জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত। এটা এমন পবিত্র মাস যার প্রথম দিক রহমত, মাঝের দিক মাগফিরাত, আর শেষ দিক হচ্ছে দোযখ থেকে মুক্তির। যে ব্যক্তি এই মাসে আপন অধীনস্থ দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকী)

প্রিয় নবীর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু ওবায়দা (রা.) রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, রোযা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ফেড়ে না ফেলা হয় (অর্থাৎ রোযা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিয়ম অনুযায়ী পালন করা হয়)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)
সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এ স¤পর্কে আরেকটি বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেছেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, অনেক রোযাদার ব্যক্তি এমন রয়েছে যাদের রোযার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ব্যতিত আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত জাগরণকারী এমন রয়েছে যাদের রাত জাগার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না। (নেক আমল যদি এখলাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে না হয়ে লোক দেখানোর উদ্দেশে হয় তাহলে এর বিনিময়ে কোনো সওয়াব পাওয়া যায় না)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) আরও বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরীয়ত সম্মত কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোযাও ভাঙে সে রমজানের বাইরে সারাজীবন রোযা রাখলেও এর বদলা হবে না। (তিরমিযী, আবু দাউদ)

হে পালনকর্তা! আপনার বান্দাদের মধ্য হতে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্দিষ্ট করুন যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়াবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়াবে

সব শেষে রমজানের ফজিলত স¤পর্কে বিখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করে শেষ করছি। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজানের জন্য বেহেশত সাজানো হয় বছরের প্রথম থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত। তিনি বলেন, যখন রমজান মাসের প্রথম দিন উপস্থিত হয় বেহেশতের গাছের পাতা হতে আরশের নিচে বড় বড় চোখ বিশিষ্ট হুরদের প্রতি বিশেষ হাওয়া প্রবাহিত হয়। তখন তারা বলে, হে পালনকর্তা! আপনার বান্দাদের মধ্য হতে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্দিষ্ট করুন যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়াবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়াবে।

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের ফজিলত জেনে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *