পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চীনের মধ্যস্থতায় রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধিদল আজ শুক্রবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের একটি পাইলট প্রকল্পকে সামনে রেখে তারা এ সফরে যাচ্ছে। তারা রাখাইন রাজ্য সফর ও পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে কক্সবাজারে ফিরে আসবে। এরপর তারা কক্সবাজারে আশ্রিত অন্য রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি অবহিত করবে।
প্রতিনিধিদলে থাকবেন ২০ জন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা। তাঁদের সহযোগিতা করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের একটি দলও সঙ্গে থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করাই তাঁদের রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলের মিয়ানমার সফরের লক্ষ্য। গত মার্চে মিয়ানমারের ১৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল ৪৮০ জন রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই করে ফিরে গেছে। এর প্রায় দেড় মাস পর রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদল মিয়ানমারে যাচ্ছে। এই দলে ২৫ থেকে ২৮ জন সদস্য থাকতে পারেন।
শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এই দলে ২০ জন রোহিঙ্গা নেতা রয়েছেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ শুক্রবার সকালে টেকনাফ থেকে নৌপথে তাঁরা মিয়ানমারের মংডুর উদ্দেশে রওনা হবেন।
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, নয়াপাড়া ও জাদিমুড়া এলাকায় অবস্থিত ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা ২০ জন নেতাকে বাছাই করা হয়েছে মিয়ানমারে যাওয়ার জন্য। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, টেকনাফ সদরে তিনটি হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতি গোপনীয়তার সঙ্গে প্রতিনিধিদলের রোহিঙ্গা সদস্যদের প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিনিধিদলে জোর করে কোনো রোহিঙ্গার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রতিনিধিদলের সদস্য, ২৭ নম্বর শিবিরের কমিউনিটি নেতা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে আমাদের ডাকা হয়েছে। সেখানে আমাদের করণীয় কী হবে সে বিষয়ে হয়তো ব্রিফ করা হবে।’ তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের দুজন নেতা বলেছেন, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাঁরা এবারের দলে থাকছেন না। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনাকে তাঁরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।


