বাসায় গ্যাস জমে বিস্ফোরণে আড়াইহাজারে ২ নারীর মৃত্যু

বাসায় গ্যাস জমে বিস্ফোরণে আড়াইহাজারে ২ নারীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি বাসায় লিকেজ থেকে গ্যাস জমে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও দুইজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে আড়াইহাজার বাজার এলাকায় পাঁচতলা ভবনের চারতলার ওই বাসায় এ বিস্ফোরণ ঘটে।

ঘটনার পর চারজনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেখানকার হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুই নারীর মৃত্যু হয়। তারা হলেন—কানিজ খাদিজা নিপা (৩৯) ও সায়মা আক্তার (৪০)। এখনো চিকিৎসাধীন দুইজন হলেন- নিপার মা হাসিনা মমতাজ (৫৫) ও সায়মার স্বামী সোহান তালুকদার (৪৫)।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, মারা যাওয়া নিপা ও সায়মা উভয়ের শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়। তাদের মধ্যে নিপা সকালে ও সায়মা দুপুরে মারা যান। আর চিকিৎসাধীন সোহানের শরীরের প্রায় ১০০ শতাংশ এবং হাসিনার ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

সোহান-সায়মা দম্পতির সঙ্গে শেয়ারে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন নিপা। সোহান স্থানীয় ফকির গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তার স্ত্রী সায়মা গৃহিণী ছিলেন। আর নিপার বাড়ি আড়াইহাজারের লক্ষীবরদীতে। তিনিও স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। নিপার মা শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বাসায় বেড়াতে আসেন।

দগ্ধ সোহানের ভাগ্নে ফাহিম মোল্লা জানান, রাত ১২টার দিকে তিনি খবর পান, তার মামার বাসায় বিস্ফোরণে আগুন লেগেছে। তখন তিনি বাসা থেকে তাদের চারজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে সকালে তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের আড়াইহাজার ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার শাহ্জাহান হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ফ্ল্যাটের ভেতর তিনটি কক্ষ, মাঝখানে রান্নাঘর। ঘরে তিতাসের গ্যাসের লাইন ও গ্যাস সিলিন্ডার দুটোই ছিল। তবে সিলিন্ডারটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতর জমা গ্যাসে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে নিশ্চিত করে তদন্তের পরই বলা যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *