গ্যাস সঙ্কট বাড়াচ্ছে স্টাবিলাইজার

গ্যাস সঙ্কট বাড়াচ্ছে স্টাবিলাইজার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় রান্নার সময় গ্যাস পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। এসব জায়গায় হালকা করে চুলা জ্বললেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না করতে পারছেন না মানুষ। এর জন্য বর্ষায় গ্যাসের লাইনে পানি ঢুকে যাওয়াকে দায়ী করছেন তিতাসের কর্মকর্তারা। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে মূলত অবৈধ স্টাবিলাইজারের ব্যবহার অধিকাংশ বাসা বাড়িতে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দিচ্ছে।

ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের অন্যান্য সময়ে গ্যাস থাকলেও মূলত সমস্যাটা চরম আকার ধারণ করে সকাল আটটার পর থেকে দুপুর দুইটার আগ পর্যন্ত। মূলত এ সময়েই গ্যাস পাচ্ছেন না তারা।

ঢাকার প্রায় সব এলাকায় এমন গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। তবে মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর ও বাসাবো এলাকায় গ্যাসের সংকটটা বেশি। এসব এলাকায় দুপুরে চুলা জ্বলে নিভু নিভু অবস্থায়।

তিতাস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা কেটে গেলে এ অবস্থার সমাধান হবে। তবে তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন একাধিক সূত্র।

এসব সূত্রমতে, প্রয়োজন মাফিক গ্যাস পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এক প্রকার স্টাবিলাইজার, যা চুলায় গ্যাসের পরিমাণ কম থাকলেও দেবে পুরোপুরি গ্যাসের নিশ্চয়তা। স্টাবিলাইজার ব্যবহারকারী পুরোদমে গ্যাস পেলেও পাচ্ছেন না তার আশপাশের অন্য গ্যাস ব্যবহারকারীরা।

কারণ, এটিকে স্টাবিলাইজার বলা হলেও এটি মূলত এক প্রকার কমপ্রেসর। যার কাজ গ্যাস লাইনের সমগ্র গ্যাসকে নিজের দিকে টেনে আনা। ইনোভেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান এই স্টাবিলাইজার উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, স্টাবিলাইজার লাইনের গ্যাসকে পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত আহরণ করে ও গ্যাস সংযোগে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে তারা আগুনের শক্তি বাড়ায়।

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার হলান বাজারে প্রতিষ্ঠানটির অফিস। সেখান থেকেই রাজধানীজুড়ে সাড়ে সাত হাজার টাকার বিনিময়ে স্টাবিলাইজার হোম ডেলিভারি দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। একই প্রক্রিয়ায় এই ধরনের স্টাবিজাইজার তৈরি হচ্ছে মোহাম্মদপুরেও। মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড ৩/এ রোডে এল কে ইনসাফ ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ও রেফ্রিজারেশন সার্ভিস দোকানটিতে পাওয়া যাচ্ছে এ ধরনের স্টাবিলাইজার। চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার হাজার টাকায় মিলছে স্টাবিলাইজারগুলো।

সংবাদকর্মী পরিচয় গোপন করে দোকানের মালিক শামীম উদ্দীনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেশিনটির ভেতরে কমপ্রেসর আছে, যা গ্যাস লাইনের গ্যাসকে নিজের দিকে টানে। ফলে লাইনে গ্যাস কম থাকলেও আশপাশের সব গ্যাস চলে আসবে স্টাবিলাইজার নামক কম্প্রেসার সংযুক্ত চুলায়।

শামীম উদ্দীন বলেন, লাইনে গ্যাস থাকুক না থাকুক। আপনি গ্যাস পাইবেন। মিশিন চালু দিলে আশপাশের সব গ্যাস টাইনা নিয়া আইবো। মেশিন কাম না করলে, গ্যাস না পাইলে আমারে আইসা ধরবেন। টাকা ফেরত।

লাইনের সকল গ্যাস কম্প্রেসরের টানে একমুখী হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন আশপাশের বাসিন্দারা। প্রয়োজনের সময় পাওয়া যাচ্ছে না গ্যাস। ইতোমধ্যে বিষয়টি দেশের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাসের নজরে পড়েছে।

জানতে চাইলে তিতাসের কেরানীগঞ্জ এলাকার ঠিকাদার শামীম জানান, এ বিষয়টি আগেই আমাদের নজরে এসেছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। গ্যাস সংযোগের সঙ্গে কোনো প্রকার কারসাজি করার সুযোগ নেই। যে বা যারা এই ধরনের কাজ করবে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। বেশ কিছু জায়গায় আমরা এমন মেশিন ধরেছি। আমরা সেসব সংযোগও বিচ্ছিন্ন করেছি। দিন দিন বিষয়টি বড় আকার ধারণ করছে। তাই আমরাও মেশিনগুলো কোথায় ব্যবহার হচ্ছে তা শনাক্তের কাজ করছি।

ঠিকাদার শামীম আরও বলেন, আমরা যে সংযোগ দিয়ে থাকি, তাতে লাইন থেকে গ্রাহকের কাছে গ্যাস পৌঁছায় পাইপের একটি নির্দিষ্ট ছিদ্রের মাধ্যমে। এই ছিদ্রেরও একটি নির্দিষ্ট মাপ রয়েছে। কেউ যদি চায়, ছিদ্রটি একটু বড় করে নেয়ার জন্য। সেটাও অবৈধ। সেদিক থেকে বলতে গেলেও, অন্যকে বিপদে ফেলে সব গ্যাস নিজে ব্যবহার করবে এমন স্বাধীনতা তিতাস কাউকে দিচ্ছে না।

লাইনে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকার কারণে অনেকেই ঝুঁকছেন এ ধরণের ইলেকট্রিক গ্যাস কন্ট্রোলার, স্টাবিলাইজার নামক অবৈধ কম্প্রেসারের দিকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরণের সংযোগে দুর্ঘটনা ঘটলে, তা অনেক বড় আকার ধারণ করবে।

____________

patheo24/105

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *