ট্যানারির কঠিন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ধলেশ্বরী নদীতে

ট্যানারির কঠিন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ধলেশ্বরী নদীতে

নিজস্ব প্রতিবেদক ● ট্যানারির কঠিন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ধলেশ্বরী নদীতে। সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার-সিইটিপি দূষিত পানি লম্বা পাইপ দিয়ে চোরাপথে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলছে বিসিক। নিয়ম বহির্ভূত হলেও ট্যানারির কঠিন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে অবৈধ ডাম্পিং ইয়ার্ডে, এখনও নির্মাণ হয়নি ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম রিকভারি প্লান্টও। নিম্নমানের যন্ত্রপাতির ব্যবহার আর সঠিক তদারকির অভাবে মাত্র কয়েকটি ট্যানারির বর্জ্যই শোধন করতে পারছে না সিইটিপি। এই অবস্থায় আবারো প্রশ্নের মুখে, নতুন শিল্পনগরীর ভবিষ্যৎ। মালিকপক্ষ বলছেন, এর সম্পূর্ণ দায় বিসিকের। আড়াই ফুট ব্যাসার্ধের এইপাইপ দিয়ে শতভাগ পরিশোধিত পানি প্রবাহিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রায় ১শ ফুট লম্বা পাইপটি ঝোপঝাড়ের আড়াল দিয়ে গিয়ে নদীর মধ্যে ফেলছে ট্যানারির দূষিত পানি। সাভারের নতুন চামড়া শিল্পনগরীর অগোছালো আয়োজনের সামান্য চিত্র এটি। প্রকল্পের ভেতরের চিত্র আরো বিচিত্র। একসময় বলা হয়েছিলো খাবার উপযোগী পানি ছাড়া হবে নদীতে, কিন্তু তরল বর্জ্য শোধনের সবশেষ ধাপের ট্রান্সফার হাউজ থেকে এ ধরণের কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানিই যাচ্ছে নদীতে। সিইটিপির আটটি মডিউলের মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে চারটি, পরীক্ষামূলকভাবে চলছে মাত্র দুটি, বাকীগুলো এখনও নির্মাণাধীন । চালু হওয়া মডিউলের অধিকাংশ ক্লিপ আর পাইপও অকেজো হয়ে পড়েছে মাত্র কয়েক মাসেই। বর্জ্য শোধনাগার বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় কুমার ঠাকুর বলেন, ‘এই ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়াটি কখনোই কাক্সিক্ষত মানের হয়নি। এর নকশায়ও সমস্যা রয়ে গেছে। এই অবস্থায় সব ট্যানারি স্থানান্তরিত হলে তার চাপ নেয়ার সক্ষমতা নেই সিইটিপির, এমন মত শিল্প মালিকদের। তাদের দাবি, বিসিকের অনৈতিক কর্মকা-ই এ অবস্থার জন্য দায়ী। সংস্থাটির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে, প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর জানায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় কথা বলবেন না তারা। সফলতা নেই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে না হওয়ায় ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম রিকভারি হচ্ছেনা এক শতাংশও। মেশিনে চাপ দিয়ে দলা বানিয়ে বিষাক্ত এই রাসায়নিক ফেলা হচ্ছে অবৈধ ডাম্পিং ইয়ার্ডে। প্রকল্পের মুল পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে ট্যানারির বাদ দেয়া চামড়ার ছাট ফেলা হচ্ছে একেবারেই খোলা জায়গায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *