পাথেয় রিপোর্ট : দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে ফেরার সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের ত্রিপুরা পুলিশের হাতে আটক হওয়া ২৪ বাংলাদেশী তালেবুল ইলমকে জেল থেকে ছাড়ানো দায়িত্ব গ্রহণ করেছে জমিয়তে উলামা হিন্দ।
অবশেষে ২৫ জুন সোমবার দীর্ঘ প্রক্রিয়া গ্রহণের পর জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি মাওলানা হাকীমুদ্দীন কাসেমীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ত্রিপুরার আগরতলা সেন্ট্রাল জেলে যান। মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমী বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের কাছে পাঠানো সংবাদে বিস্তারিত উল্লেখ করে বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানীর প্রেরিত বিশেষ একটি প্রতিনিধি দলে আমরা আজ আগরতলা সেন্ট্রাল জেলে এসেছি। গত ১০ মে আটক হওয়া বাংলাদেশের ২৪ ছাত্রের মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে এখানে।
মাওলানা মাহমুদ মাদানীর প্রচেষ্টায় তাদের মুক্তি প্রক্রিয়ার কাজ খুব দ্রুত এগুচ্ছে। আমাদের সাথে দিল্লী থেকে এসেছেন এডভোকেট নুরুল্লাহ এবং এখানকার (আগরতলা) এডভোকেট জহীরসহ সঙ্গে আছেন ত্রিপুরা জমিয়ত উলামা হিন্দের সদর মুফতী আব্দুল মুমিন ও জমিয়তে উলামা হিন্দ আগরতলা শহর সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াসীন।
আলহামদুলিল্লাহ সুসংবাদ হলো আমরা সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছি এবং তাদের মধ্যে দু’জনের মুক্তির ব্যবস্থাও হয়েছে আল্লাহর রহমতে। তবে মুক্তিপ্রাপ্ত দু’জন কারা এ সম্পর্কে নিশ্চিত জানা যাবে মঙ্গলবার কোর্টে। এছাড়াও অন্যান্য সবার ব্যাপারেও মুক্তির জোর চেষ্টা চলছে। খুব শীঘ্রই তাদের মুক্তির ব্যবস্থা হবে ইনশাআল্লাহ। দোআ করুন আল্লাহ তায়ালা যেন দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন।

মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমী আটক সব শিক্ষার্থীর বাংলাদেশী পরিবারকে নিশ্চিন্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা মাকনুনকে জানান, তিনি যেন প্রত্যেকের পরিবারেই তাদের নিশ্চিন্ত থাকার খবর পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ ছেলেদের কোনও সমস্যা হয়নি। এখানে তাদের রমযান খুব ভালোই কেটেছে। কোরআন খতম এবং তারাবীহ’র মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হয়েছে রমজানের দিন। তাদের সবারই এ বিশ্বাস এসে গেছে যে, আমাদের মুক্তির জন্য জমিয়তে উলামা হিন্দ এবং হযরত সাইয়্যেদ মাওলানা মাহমুদ মাদানী ময়দানে আছেন এবং মুক্তির সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে ফেরার সময় গত ১০ মে ২৪ বাঙালি শিক্ষার্থীকে সন্দেহজনক আটক করে ত্রিপুরা পুলিশ। পরে তাদের ত্রিপুরা রাজধানী আগরতলা জেলে রাখা হয়। এ অবস্থায় দু’দেশের প্রধান আলেমদের মাঝে উদ্বেগ দেখা গেলেও কার্যত বাংলাদেশ ও ভারতের কেউই এগিয়ে আসতে পারছিলেন না। তবে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা শুরু থেকেই ভারতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির ব্যাপারে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল।
উল্লেখ্য, মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমী বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদের কাছে জমিয়ত উলামা হিন্দের পক্ষ থেকে সালাম পাঠিয়ে তার দোআ কামনা করেন। এর সাথে বিশেষভাবে তিনি আটক সব শিক্ষার্থীদের পরিবারকেও সবসময় আমল ও দোআ করার আহ্বান জানান।
গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
সূত্র : জমিয়তে উলামা হিন্দ কার্যালয়


