পাথেয় ডেস্ক : বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘৃণিত সেই দিনটির পর কেটে গেছে দুই বছর৷ রক্তাক্ত দিনটি ফিরে এসেছে আবার৷ গুলশানে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার পর একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ডেরা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা সব মহলে প্রশংসিতও হয়েছে৷ জঙ্গি দমন অভিযানে খতম হয়েছে গুলশনের ঘাতকরা৷ ধরা পড়েছে অনেকেই৷ কিন্তু অধরা এখনো দুই জঙ্গি৷ হামলা পরবর্তী তদন্তে উঠে এসেছে তারা পালিয়ে ভারতে লুকিয়ে রয়েছে। আর এ খবর জানাচ্ছে কলকাতা২৪।
রবিবার এক প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমটি বলছে, গুলশান হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন প্রথম জন মামুনুর রশিদ রিপন ও দ্বিতীয় জন শরীফুল ইসলাম খালিদ৷ এই দুই নব্য জেএমবি জঙ্গিকে পলাতক দেখিয়েই কয়েকদিনের মধ্য পেশ করা হবে গুলশান হামলার চার্জশিট৷
জঙ্গি দমন বাহিনী কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) সেই হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেছে৷ চার্জশিটে থাকছে হামলার দিন অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ধের পর থেকে নাশকতা পরবর্তী সময়ে তদন্তের বিবরণ এবং নিহত ও ধৃত জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য প্রমানাদি৷
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলশান হামলার পরিকল্পনা ও জঙ্গি সরবরাহকারী হিসেবে অন্যতম নাম মামুনুর রশিদ রিপনের। জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ( জেএমবি) সংগঠনের শীর্ষ নেতা ছিল রিপন। পরে জেএমবি ভেঙে নব্য জেএমবি তৈরি হলে রিপন সেই সংগঠনে নাম লেখায়৷ কানাডা থেকে আসা বাংলাদেশি জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরী ওরফে ‘বাংলার বাঘ’ ঘনিষ্ঠ রিপনের বাড়ি বগুড়ায়৷ সে মূলত বাংলাদেশের উত্তারঞ্চলে সংগঠনের দায়িত্ব নিয়েছিল৷ গুলশান হামলার পর থেকেই নিখোঁজ এই জঙ্গি৷
বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্তাদের ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছে রিপন৷ পশ্চিমবঙ্গ বা আসামের কোথাও তার গোপন আস্তানা রয়েছে৷
গুনশান হামলার আরও এক মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হল রিপন৷ সেও হামলার পর থেকে নিখোঁজ৷ গোয়েন্দাদের ধারণা রিপন ও খালিদ একসঙ্গেই লুকিয়ে রয়েছে ভারতে৷ হোলি আর্টিসান ক্যাফেতে হামলার পরিকল্পনায় পুরোপুরি জড়িত খালিদ৷ সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র৷ পড়ত ইংরেজি নিয়ে৷
ইদের আগে রমজানের মাসে হামলা করা হয়েছিল ঢাকার হোলি আর্টিসান ক্যাফেতে৷ ভয়াবহ সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ইদের দিন ফের হামলা চালানো হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার বিখ্যাত ঈদের জামাতের সময়।
নব্য জেমবির আত্মগোপনকারী নেতৃত্ব ফের গুলশান হামলার মতো পরিকল্পনা করেছে সেটা জানতে পারেন গোয়েন্দারা৷ পরে জঙ্গি দমন অভিযানে খতম হয়েছে তামিম চৌধুরী সহ আরও শীর্ষ জঙ্গি নেতা৷
এদিকে নব্য জেএমবির একাধিক নেতৃত্ব খতম বা ধরা পড়ার পরেও তাদের পুরনো শাখা অর্থাৎ জেএমবির প্রধান সালাউদ্দিন সালেহীন এখনো অধরা৷ গোয়েন্দাদের ধারণা, আই সালাউদ্দিন পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে৷ তার নেতৃত্বে নতুন করে জেএমবি তাদের নাশকতা ছড়াতে তৈরি হচ্ছে৷ একাধিক নাশকতার মামলায় সালাউদ্দিনের যোগসূত্র মিলেছে৷ সিটিটিসির দাবি, পুরনো জেএমবিকে শক্তিশালী করতে হাল ধরেছে সালাউদ্দিন সালেহীন৷
গুলশান হামলার দুই অধরা জঙ্গি রিপন ও খালিদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে ফের ভিড়তে পারে বলেও প্রশ্ন উঠেছে৷ কারণ নাশকতা ছড়াতে জেএমবির পলাতক প্রধান ‘আমির’ সালাউদ্দিন সালেহীনের মতো নেতৃত্ব তাদের প্রয়োজন৷ সেই সূত্রে ছেড়ে আসা পুরোনো সংগঠন জেএমবিতে গিয়েই ঢুকতে পারে রিপন৷ তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেতে পারে খালিদও৷


