তাদেরেক আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিল কে?

তাদেরেক আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিল কে?

পাথেয় ডেস্ক : ভারতের দিল্লিতে একই পরিবারের ১১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায়, পুলিশ তন্ত্র সাধনার প্রভাবে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিলেও পরিবারের স্বজনেরা এটাকে হত্যা বলে মনে করছেন। তাঁদের অভিযোগ, তন্ত্র সাধনার কারণে আত্মহত্যার কথা বলে ঘটনার মোড় অন্যদিকে নেওয়া চেষ্টা চলছে। গতকাল সোমবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিলেও রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুরোদমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আনন্দবাজার অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জানেগড়ি বাবা’ নামে এক তান্ত্রিকের খোঁজে অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ভাটিয়া পরিবারের লোকেদের মোবাইলের কললিস্ট ঘেঁটে এই বাবার সন্ধান পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

গত রোববার ভারতের দিল্লির বুরারি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে এক পরিবারের ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মধ্যে সাতজন নারী ও চারজন পুরুষ। বাড়ির ভেতরে ১০টি মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, সবারই চোখ ও হাত বাঁধা ছিল। এক বৃদ্ধার মৃতদেহ মেঝেতে পাওয়া যায়। সবাই একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে পুলিশ। মেঝেতে পড়ে ছিল বৃদ্ধা নারায়ণী দেবীর (৭৭) লাশ। তিনিই পরিবারের কর্ত্রী ছিলেন। তাঁর তিন ছেলে, দুই মেয়ে। মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে নারায়ণী দেবী, তাঁর দুই ছেলে ভবনেশ, ললিত, মেয়ে প্রতিভাসহ পরিবারের ১১ জনের। তাঁরা এলাকায় ভাটিয়া পরিবার নামে পরিচিত। নারায়ণী দেবীর মেয়ে সুজাতা নাগপাল ও দিনেশ অন্য এলাকায় থাকায় তাঁরা বেঁচে গেছেন।

সুজাতা নাগপাল বলেন, ‘আমার মা, দুই ভাই, বোন, তাঁদের ছেলেমেয়েদের কেউ খুন করেছে। আর পুলিশ তন্ত্রমন্ত্রের গল্প বানাচ্ছে।’ তাঁর দাবি, বাড়িতে সাধারণ গৃহস্থ পরিবারের মতোই পূজা-অনুষ্ঠান হতো। তাঁর ভাইয়েরা কেউ তন্ত্রমন্ত্র বা গুপ্ত সাধনায় জড়িত ছিলেন না। তা হলে তিনি তা টের পেতেন।

এদিকে এ ঘটনায় কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। প্রথম প্রশ্ন, পুরো পরিবার অতিপ্রাকৃতে বিশ্বাস করে আত্মহত্যা করার কথা ভাবছিল অথচ আত্মীয়রা কেউ তা টের পাননি। দ্বিতীয় প্রশ্ন, রোববার সকালে ভাটিয়াদের বাড়ির সদর দরজা খোলা ছিল। রাতে সপরিবারে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করলে দরজা খুলে রাখবেন কেন? তৃতীয় প্রশ্ন, তাহলে কি বাইরে থেকে কেউ এসে দরজা খুলে বেরিয়ে গিয়েছিল? সে কি বাড়ির লোকেদের পরিচিত? না হলে বাড়িতে কুকুর থাকা সত্ত্বেও ডাকল না কেন?

এ ছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সবাই মিলে মৃত্যুর পরিকল্পনা করেছেন অথচ ১৪ দিন আগে তাঁরা বাড়ির মেয়ে প্রিয়াঙ্কার বিয়ের বাগদানের অনুষ্ঠান করেন ধুমধাম করে। এখানেই কোনো তান্ত্রিকের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, কোনো তান্ত্রিক ভাটিয়াদের এই পথে যেতে চাপ দিয়ে থাকতে পারে। তার নির্দেশমতোই ডায়েরিতে আত্মহত্যার প্রক্রিয়া লিখে রাখা ছিল। সেই হাতের লেখা কার, তারও তদন্ত হচ্ছে। কোনো তান্ত্রিক আত্মহত্যায় মদদ দিয়ে থাকলে তার পেছনে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা-ও দেখা হবে। সম্পত্তিসংক্রান্ত বিবাদ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার ইতিহাসও খোঁজা হচ্ছে।

পরিবারটি একটি মুদি দোকান ও কাঠের দোকান চালাত। প্রতিবেশীরা জানান, খুবই শান্ত ও হাসিখুশি একটি পরিবার ছিল। কাউকে কখনো ঝগড়া-বিবাদ করতে দেখেননি তাঁরা। আর্থিকভাবেও সচ্ছল ছিল পরিবারটি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *