নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১২ রুটে বাস চলাচলের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবার ঝালকাঠি বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি বরিশাল থেকে কালিজিরা বাসস্ট্যান্ডে তাদের বাস সরিয়ে নিয়েছে। সংগঠনের নেতারা বুধবার সকাল থেকে ৮ রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
এতে আবার বরিশাল থেকে কালিজিরা হয়ে খুলনা পর্যন্ত বরিশাল মালিক সমিতির বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বরিশাল বাসস্ট্যান্ড থেকে কালিজিরা পর্যন্ত অটোরিকশা, টেম্পু, মাহেন্দ্রযোগে আসতে যাত্রী সাধারণের বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও নারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হয়েছে। এনিয়ে দুই জেলার মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে মোট ১১ বার বরিশাল থেকে কালিজিরায় বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে আনার ঘটনা ঘটল।
এদিকে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ঝালকাঠির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বশির গাজী পুলিশের সহায়তায় কালিজিরা গিয়ে সেখান থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ঝালকাঠি হয়ে পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা পর্যন্ত ৮ রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘটের ডাক দেয়। তাই বিকেল থেকে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে ঝালকাঠি বাস মিনিবাস মালিক সমিতির দাবি ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১১ রুটে প্রতিদিন ৪৮টি গাড়ি চলাচল করার পারমিট দিতে হবে। দক্ষিাণাঞ্চলের রুটগুলো হচ্ছে বরিশাল থেকে কুয়াকাটা, পটুয়াখালী, বরগুনা, লেবুখালি, বগা, বাকেরগঞ্জ ও বেতাগী। পশ্চিমাঞ্চলের রুট গুলো হচ্ছে পিরোজপুর, মঠবারিয়া, ভাঙ্গা ও খুলনা। বরিশাল বাস মালিক সমিতির কাছে এ দাবি উপস্থাপন করে তা আদায়ে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ইতিপূর্বে অনেক বৈঠক, দেনদরবার, আলোচনা করেও সুফল পায়নি। সবশেষ গত ২৪ জুন ২০১৮ তারিখ বরিশাল সার্কিট হাউজে এ বিষয়ে একটি চুড়ান্ত বৈঠক হয়। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে সকল জেলা প্রশাসকদের নিয়ে ঝালকাঠি ও বরিশাল উভয় মালিক সমিতির নেতারা ঐ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির এসব রুটে প্রতিদিন ১২টি গাড়ি চলাচলের অনুমতি দিবে বরিশাল মালিক সমিতি। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন না করায় পুনরায় ঝালকাঠি মালিক সমিতি পূর্বের সিদ্ধান্তে ফিরে এসে কালিজিরায় বাসস্ট্যান্ড চালু করে।
ঝালকাঠি বাস মিনিবাস মালিক সমতির সিনিয়র সহসভাপতি মাহাবুবুল হক দুলাল বলেন, এ সমস্যা সমাধানে আমাদের সঙ্গে সব শেষ বরিশাল সার্কিট হাউজে বরিশাল বাস মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয় বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে। বৈঠকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ১১ রুটে আমাদের প্রতিদিন ১২টি গাড়ি প্রাথমিক ভাবে চলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
গত ২৪ জুন ঐ বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ি দক্ষিাঞ্চলের কুয়াকাটায় ১টি, পটুয়াখালীতে ১টি, বরগুনায় ১টি, লেবুখালিতে ১টি, বগায় ১টি, বাকেরগঞ্জে ১টি ও বেতাগীতে ১টি করে প্রতিদিন ৭টি বাস চলবে। এছারা পশ্চিমাঞ্চলের খুলনায় ১টি, ভাঙ্গায় ১টি, পিরোজপুরে ১টি এবং মঠবারিয়ায় আমাদের ২ টি গাড়ি চলার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বরিশাল বাস মালিক সমিতি বিভাগীয় কমিশনারের এই সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন টাল বাহানায় তা বাস্তবায়ন করেনি।
ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির এই নেতা আরো জানান, আমাদের ঝালকাঠির উপর দিয়ে বরিশাল বাস মালিক সমিতির বাস পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের সব রুটে চলাচল করলেও আমাদের কোন বাস তারা এসব রুটে চলতে দিচ্ছে না। তাই দীর্ঘদিন ধরে আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনসহ সর্ব মহলের সহযোগিতা কামনা করে আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণের আহ্বান জানিয়ে আসছি। আমাদের এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
এদিকে এ দাবির কোন যুক্তিকতা নেই জানিয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন জানান, বরিশাল বিভাগীয় মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছি। কিন্তু পটুয়াখালি ও বরগুনা বাস মালিক সমিতি তাদের রুটে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির গাড়ি চালাতে দিতে একটু খামখেয়ালি করছে। সেটা তাদের নিয়ে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি আমাদের সাথে আলোচনায় বসলেই পারত।


