পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ইসলামেের সৌন্দর্য : মাহমুদ রহমানি

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ইসলামেের সৌন্দর্য : মাহমুদ রহমানি

পাথেয় রিপোর্ট (নয়াদিল্লী): সুস্থতা, স্বচ্ছলতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে ইসলামে ঈমানের অনুষঙ্গ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ আজকাল নানা ধরনের বদ অভ্যাস ও গাফলতির কারণে আমাদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা দুটোই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহই জানে কতশত মারাত্মক ব্যাধী আমাদের আক্রান্ত করে নিয়েছে। তাই আমাদের জন্য আবশ্যক হলো সারাজীবন ইসলামি আদব ও তার নির্দেশনাবলীর প্রতি পূর্ণ খেয়াল রাখবো এবং সুস্থতা, স্বচ্ছলতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতিও পুরোপুরি যত্নবান হবো।

যেসব জিনিস আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এমন প্রত্যেকটা জিনিস থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ ইসলামই আমাদেরকে দেয়। রাসূল সা.এর বাণী হলো, শক্তিশালী ও দৃঢ়পদ মুসলমান দুর্বল মুসলমানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। রাসূল সা. আবার অন্যত্র বলেন, অধিকাংশ মানুষই সময় ও সুস্থতার ব্যাপারে অত্যন্ত উদাসীন।
আজকাল যখন ডায়াবেটিকস, ব্লাডপ্রেসার, ডিপ্রেশন, টেনশন, ক্যান্সার এবং এমন অজানা অসংখ্য রোগ আমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন আমাদের দায়িত্ব হলো নিজে এর থেকে বেঁচে থাকা এবং যেসব কারণে এসব জীবন ধ্বংসী রোগ হচ্ছে তা থেকে অন্যকেও বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ পৃথিবীতে যত রকমের অসুস্থতা দিয়েছেন সঙ্গে তার প্রতিষেধক ঔষধও বিদ্যমান আছে। একারণে রোগব্যাধি বা কোনও অসুস্থতার ব্যাপারে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রতিকারে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।
গত ৩ আগস্ট নয়াদিল্লীর মসজিদে আবুবকরে জুমআর বয়ানে এসব কথা বলেন মাওলানা মাহমুদ রহমানী। শনিবার দিল্লীর ডেইলি হামারা সমাজে তা প্রকাশিত হয়।
তিনি বলেন, ইসলাম পাঁচটি জিনিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। জীবন,সম্পদ,সম্মান, দ্বীন ও জ্ঞান। এ পাঁচটি জিনিস এমন, যদি এসবের পুনপুন সংরক্ষণ করা হয় তাহলে মানুষ নিজেদের সুস্থতাকে পরিপূর্ণভাবে সংরক্ষণে সক্ষম হবে।
একারণেই ইসলাম রাগান্বিত হতে নিষেধ করেছে। জুলুম,জবরদস্তিকে দূর করেছে। চোখের হেফাজত করতে বলেছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে এবং যেসব বিষয়াদি সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর তা হারাম করেছে। নেশা গ্রহণকে হারাম করা হয়েছে,খাবারের পাত্রসমূহের মুখ খুলে রাখা এবং পানি পানের সময় নিঃশ্বাস গ্রহণে বারণ করা হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তার পবিত্রতার জন্য দৈনিক পাঁচবার অযু মানুষের সুস্থতায় ঠিক যেন মেরুদণ্ডের হাড্ডির মতো। রোজার প্রতি পূর্ণ গুরুত্বারোপ ও নফল রোজার প্রতিও মনোযোগ বাস্তবেই মানুষকে অনেক রোগব্যাধি থেকে বাঁচিয়ে দেয়। ইসলামে পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতায় অনেক গুরুত্ব দেয়। এরদ্বারাও মানুষের সুস্থতা অর্জন হয়। ভোরে দ্রুত ঘুম থেকে উঠে যাওয়াকে ইসলামে বরকত ও কল্যাণকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিক তেমনি রাতেও দ্রুত ঘুমিয়ে যাওয়ার তাকীদ আছে।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সূত্র : হামারা সামাজ, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *