পাথেয় ডেস্ক (নয়াদিল্লী) : গত সোমবার ৭ আগস্ট সুপ্রিমকোর্টে আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার সিটিজেন (এনআরসি) বিষয়ে বক্তব্য শোনার পর বিচারক রঞ্জন গগৈ এবং বিচারক নৃমানের বেঞ্চ, এনআরসির কো-অর্ডিনেটর মিস্টার প্রতিক হাজরাওয়ালা এবং জেনারেল অফ ইন্ডিয়া রেজিস্ট্রার মিস্টার সী’কেশকে জোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আপনাদের সব কর্মকাণ্ডই যেন দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত হয় এবং একটি নির্ভুল এনআরসি হয়। নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ীই যেন কোনকিছু না হয় এ জন্য আপনাদের ওয়ার্নিং দিচ্ছি যে, নিজেদের সীমায় থেকেই কাজ করে যাবেন। নচেৎ কোর্ট আপনাদের কারাগারে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে। এনআরসি’র ব্যবস্থা সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ীই চলছে। তাই এটাকে কীভাবে করা হবে এবং এর জন্য কোন ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য হবে আদালতই এর সিদ্ধান্ত নেবে।
মূলত আদালতের এ কঠোর অবস্থান এ জন্যই ছিল যে, আসামে এনআরসির দ্বিতীয় আরেকটি পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকেই যত্রতত্র বিভিন্নরকম বক্তব্যের ধারা চালু হয়েছে, যাতে সার্বিক পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
এমনকি গত ৩১ জুলাই ২০১৮ একটি শুনানির ভিত্তিতে সুপ্রিমকোর্ট স্পষ্টভাবেই রাজ্যসরকারকে আদেশ দিয়েছিল যে, ওই চল্লিশ লাখ মানুষের আদমশুমারির মধ্যে যাদের নাম এনআরসিতে আসেনি। তাদের জন্য standard opreting proceedure তৈরী করে ১৬ আগস্ট ২০১৮’র মধ্যে প্রস্তুত করে রাখবে। বিশেষ পরামর্শের পর কোর্ট এটিকে মঞ্জুরী দিবে। এরপরই পদ্ধতি অনুযায়ী এনআরসিতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু হয়ে যাবে। কিন্তু এমন অবস্থায় এনআরসির কো-অর্ডিনেটর এবং রেজিস্টার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া তাদের ব্যক্তিগত এক বৈঠকে এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলেন, এনআরসিতে যাদের নাম আসেনি তারা রেজিস্ট্রেশনের জন্য ওই ডকুমেন্ট নিয়ে এসো, আগে যার মঞ্জুরী দেয়া হয়েছিল। এছাড়া অন্যকোন ডকুমেন্ট থাকলেও পেশ করা যাবে।
এ ঘটনার পরপরই আদালত সরাসরি নোটিশ দিয়ে তাদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, কোন ডকুমেন্ট গৃহীত হবে আর কোনটা হবে না এর ফায়সালা করবে আদালত। এরপর ভবিষ্যতে এনআরসির অফিসাররা যেন নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী কোন কাজের সিদ্ধান্ত না নেয়, এ বিষয়েও আদালত তাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।
এই শুনানির পর জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ মাদানী এবং জমিয়তে উলামা সোবা, আসামের প্রেসিডেন্ট মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল বলেন, কোর্টের এ কঠোর অবস্থান থেকে জানা যায় তারা এ মামলা ও এর ফলাফলের উপর গভীর নজরদারী করছে। যা বিতর্ক উসকে দেয়া এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে করে রাখা ওইসব লোকদের জন্য কঠিন ওয়ার্নিং। যারা সার্বিকভাবেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করতে লেগে থাকে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষ প্রয়োগ করতে থাকে। আসামের চলমান সঙ্কট যা আমাদের সামনেই আছে।
তারা বলেন, লোকদের উচিৎ তারা এখন নিরাপদ ও নিরাপত্তার অবস্থায় এনআরসিতে রেজিস্ট্রেশন করে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে এবং নিজের সাধ্যানুযায়ী ত্যাগ স্বীকার করবে।
ইতোমধ্যেই জমিয়তে উলামা সোবা আসামের আশপাশসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় লোকদের সাহায্যের জন্য কমিটি গঠন করেছে। যারা প্রত্যেকটি সিনেটরেই উপস্থিত থাকবে। খুব দ্রুতই ভুক্তভোগী লোকদের নাম ও নাম্বার প্রকাশ করা হবে যেন সহজভাবেই লোকেরা উপকৃত হতে পারে।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সুত্র : ডেইলি হামারা সামাজ দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


