জাকির হোসাইন : সালটি ছিল উন্নিশ শো ছাব্বিশ (১৯২৬) ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদে মুখ খোলার সাহস কারো ছিল না। সর্ব ভারতীয় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি জনাব হজরত মাওলানা হুসেন আহম্মদ মাদানী(রহঃ) চিন্তা করলেন যে, ইংরেজকে মরণ দিতে গেলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে চাকুরি করা হারাম। এই মর্মে ভারতবাসীকে সতর্ক করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এক ফতোয়া প্রাদান করলেন।
উক্ত ফতোয়া দেওয়ার অপরাধে করাচির ঐতিহাসিক কাবিনা হলে শাইখুল ইসলামের বিচার করার জন্য ইংরেজ আদালতে ইংরেজ বিচারকের সম্মুখে শাইখুল ইসলামকে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হল। ইংরেজ জজ জিজ্ঞাসা করল, হুসেন আহম্মদ, “এই ফতোয়া তুমিই প্রদান করিয়াছ?”
অগণিত জনতা তখন কোর্ট চত্বরে উপস্থিত। বিচার শুনানির অবস্থা দেখে সকলেই বাকরুদ্ধ হয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। পুনরায় ইংরেজ জজ জিজ্ঞাসা করল। “এই ফতোয়া তুমি দিয়েছো কিনা?”
জনতার ভিতর হতে মাওলানা মহম্মদ আলি জওহর(রহঃ) ঐতিহাসিক কাবিনা হলের বিচারস্হলে জমিয়তের সভাপতি শাইখুল ইসলামের হাত ধরে বললেন, “হযরত! ইংরেজ আদালতে অকপটে ইংরেজ বিচারকের সম্মুখে ফতোয়ার বয়ান স্বীকার করে নিলে এর পরিণাম হবে মারাত্মক।
আল্লাহর ওয়াস্তে দেশ ও জাতির মুখ চেয়ে আপনি আপনার বয়ান বদলে দিন। আত্ম পক্ষ সমপন করার অধিকার সকলেরই আছে, আপনি আপনার দেওয়া ফতোয়া প্রত্যাহার করার নিয়তে বয়ান বদল করে দিন।”
শাইখুল ইসলাম সিংহের মতো গর্জে উঠে বললেন, “ও মহম্মদ আলি জওহর! আমি যদি আজ বয়ান বদলে দিই তো খোদার কসম ইমান বদলে যাবে। অতএব আমি আমার প্রদত্ত ফতোয়া থেকে সরে আসতে পারি না।”
প্রিয় পাঠক মণ্ডলী! উক্ত ঘটনা থেকে আমরা অনুমান করতে পারি আমাদের পূর্বসূরী জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কর্মকর্তাগণ কি-ইস্পাত কঠিন চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
লেখক : তরুণ গবেষক, বশিরহাট, কলকাতা


