পাথেয় ডেস্ক : আসামের ৪০ লাখ মানুষ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার উল্লেখ করে জমিয়তে উলামা হিন্দ আসামের প্রধান ও পার্লামেন্ট সদস্য মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও গাইড লাইনস উপেক্ষা করার কারণে বাবার নাম নাগরিকত্বের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কিন্তু পুত্রের নাম নেই। একইভাবে স্বামীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে অথচ স্ত্রীর নাম নেই।
অসমিয়দের সাথে ষড়যন্ত্র করার কারণে এমনটি হয়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অসমিয়দের নাগরিকত্ব নিয়ে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, আগ্রাসী মনোভাব এবং মুসলিম ঘৃণার একটি উদাহরণ পেশ করেছে- যোগ করেন বদরুদ্দীন আজমল।
১১ আগস্ট শনিবার দিল্লীর ন্যাশনাল ডেইলি জাদিদ খবরে প্রকাশিত সংবাদে বদরুদ্দীন আজমল এসব কথা বলেন।
ভারতের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অসমিয়দের নাগরিকত্ব নিয়ে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, আগ্রাসী মনোভাব এবং মুসলিম ঘৃণার একটি উদাহরণ পেশ করেছে- যোগ করেন বদরুদ্দীন আজমল
ভারতে অসমিয়দের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) নামে বাঙালিদের ভারত থেকে তাড়ানোর যে পরিকল্পনা চলছে, তা এখন আসামের পাশের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ছাড়িয়ে গোটা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
বিজেপি সরকার এনআরসি কার্যক্রমের অন্তরালে ভারতের আসাম থেকে লাখ লাখ মুসলমান বাঙলিদেরকে ভারত থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ভাষ্য আসামের এই ৪০ লাখ মানুষ বাংলাদেশ থেকে আসামে অনুপ্রবেশকারী।
মোম্বাই বিজেপির নেতা আসামের এই ৪০ লাখ মানুষকে দেশ ও জাতির শত্রু বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর তাদেরকে গুলি করার কথা বলেছেন। বিজিপি নেতার জবাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘অসমিয়দের সাথে এমন আচরণ করলে এই সমস্যাটি দেশে রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
মমতা ব্যানার্জি বলেন, এটা স্পষ্ট যে অসমিয়দের অধিকাংশই বাংলাদেশী ভাষাভাষী মুসলমানদের অন্তর্গত। কিন্তু তাদেরকে ভারতের নাগরিকত্ব না দিয়ে ভারত থেকে বের করে দেয়া হলে তারা কোথায় যাবে? বাংলাদেশ কি তাদেরকে গ্রহণ করবে?
এদিকে আসামের ৪০ লাখ মানুষের হতাশা দিন দিন বেড়েই চলছে, তারা নিজেদের এবং তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন এবং বিভ্রান্ত।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : ডেইলি জাদিদ খবর, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


