পাথেয় ডেস্ক : বর্তমান সংসদের প্রতি মানুষের কোনও আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।’ সোমবার (২৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
রেজাউল করীম বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। দলীয় সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, তা বিগত নির্বাচনগুলোয় প্রমাণ মিলেছে। বিগত পৌরসভা, সিটি ও ইউপি নির্বাচনগুলোতে ভয়াবহ ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, কারচুপি ও ভয়াবহ অনিয়মের দৃশ্য দেশবাসী বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছে।’
চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘বর্তমান সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে সে নির্বাচন কখনোই প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হলে বর্তমান সংসদ সদস্যদের অবশ্যই ক্ষমতাহীন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের নির্বাচন যারা সুষ্ঠু করতে পারেনি, তারা জাতীয় নির্বাচনও করতে পারবে না। ফলে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করতে হবে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, আরপিও সংশোধন করে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের বিধান প্রয়োগ করে ডিজিটাল কারচুপির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন চক্রান্ত করছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের এই আমির বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে প্রায় সব দলই ইভিএমের বিপক্ষে মত দেয়। রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে নির্বাচনে এই পদ্ধতির প্রয়োগ হবে না বলে আশ্বস্ত করে ইসি। এখন তারা চক্রান্ত করছে।
রেজাউল করীম বলেন, বিগত তিন সিটির নির্বাচনে ইভিএম প্রয়োগ করা কেন্দ্রগুলোতে ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে। একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতে ইসি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করতে চাচ্ছে। তিনি জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জনগণ প্রতিহত করবে।
সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের বিষয় আলোচনায় আসে। সেখানে সংশোধনের মাধ্যমে আরপিওতে ভোটে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা ওঠে। তবে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান বিপরীতমুখী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চায় ভোটে ইভিএম ব্যবহার হোক। অন্যদিকে বিএনপি কারচুপির আশঙ্কায় শুরু থেকেই ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে।


