বামপন্থী মৌলবাদীরা কওমি সনদের সরকারি ঘোষণার বিরোধিতা করছে : আল্লামা মাসঊদ

বামপন্থী মৌলবাদীরা কওমি সনদের সরকারি ঘোষণার বিরোধিতা করছে : আল্লামা মাসঊদ

মাসউদুল কাদির ● এসময়েও ইংরেজদের দুষ্টুবুদ্ধির চর্চা করে একধরনের বামপন্থী ও নামধারী সুন্নীজামাত কওমিসনদের বিরোধিতা করছে জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়াম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ইংরেজরা আলেমদের জনবিচ্ছিন্ন করে উপমহাদেশ শাসনের পথপ্রস্তুত করেছিল। এ দেশের উদার, অসাম্প্রদায়িক আলেমদের একশ্রেণি বামপন্থীরা জনবিচ্ছিন্ন করে রাখতে চায়।

এগার এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তির সঙ্গে চক্রান্ত করে দূরে ঠেলে রাখা আলেমদের সংযুক্ত হওয়াকে সহ্য করতে পারছে না জনবিচ্ছিন্ন একশ্রেণি। কারণ স্বাধীনতার সপক্ষশক্তির সঙ্গে ব্যবধান ঘুচে যাওয়ায় তারা নিজেদের লাভক্ষতির হিসাবনিকাশ কষছেন।

হাইকোর্টের সামনে মূর্তিস্থাপনকে সাম্প্রদায়িকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটা সম্প্রদায়ের বিশ্বাসকে চাপিয়ে দেয়াটাই সাম্প্রদায়িকতা। যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প উসকে দিতে চায় তারা দেশের মঙ্গলাকাক্সক্ষী নয়।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার স্বপ্নের কথা জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, হযরত উমর আমিরুল মুমিনীন হওয়া সত্ত্বেও নিজের মাকে জোর করে কলেমা পড়তে বাধ্য করেননি। আমরা তাদেরই উত্তরসূরি।

শিল্পের দিক থেকেও গ্রীকমূর্তিটি বিভ্রম সৃষ্টি করেছে দাবি করে তিনি বলেন, গ্রীকমূর্তি তৈরিতে শিল্পের দিক বিবেচনায়ও শিল্পমান উন্নীত নয়। গ্রীকের এক নারীর গায় শাড়ি পরিয়ে দেয়া হয়েছে। শিল্পবোদ্ধাদের প্রতিবাদ করা দরকার ছিল। তিনি মোনালিসার ছবির কথা উল্লেখ করে বলেন, আজকে মোনালিসার সেই ছবি কিংবা পিকাসোর কোনো ছবির চরিত্র বদল করলে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠবে। অথচ গ্রীকমূর্তির ক্ষেত্রে কোনো সমালোচনাই হয়নি।

কর্ম থেকে কর্মীর সৃষ্টি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মী থেকে জাতির পিতার আসনে আসীন হয়েছেন। তাই তিনি কর্মী দুঃখবোধ বুঝতে পারতেন।

বৃহস্পতিবার (২০ এপিল ২০১৭) দুপুরের রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জমিয়তের কাজের কথা উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা এক অবিস্মরণীয় সাফল্য বয়ে এনেছে। আমেরিকার মতো দেশে নতুন প্রশাসন আসার পর উম্মতে মুসলিমার উপর যে অস্থিরতা এসেছিল বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার নেতৃবৃন্দ পশ্চিমে সফর করায় তা প্রশমিত হয়। জমিয়ত নেতৃবৃন্দ মার্কিট প্রশাসন, ইউ এস স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে আলোচনায় আমরা এ কথা বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, সন্ত্রাসীরা শুধুই সন্ত্রাসী। তাদের কোনো দেশ, ধর্ম নেই। প্রবাসী মুসলমান ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এ কথা বুঝাতে চেয়েছি যে, সবুর ও তাহাম্মুলের চেয়ে বড় কোনো অস্ত্র নেই। একমাত্র সবুরই জালেমকে মাথা নোয়াতে বাধ্য করে। তাই এমন কোনো কাজ করবো না যার কারণে অন্য ভাইদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। জমিয়ত নেতৃবৃন্দের সফরের সাফল্য এখন আপনাদের সামনে।

মিয়ানমার রুহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতনের ব্যাপারেও জাপান সরকার, ইইউ এবং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করে নির্যাতনবন্ধে ও সমস্যা সমাধানে জমিয়তুল উলামা জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

মাসউদুল কাদির ও শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় এবং মুফতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা শামসুল হুদা খান, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা দেলোয়ার হোসইন সাইফী, মাওলানা হোসাইন আহমদ, কারী শামসুল হক, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা আইয়ুব আনসারী, মাওলানা সাঈদ নিজামী, মাওলানা তাজুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, মাওলানা মুঈনুল ইসলাম, মাওলানা উবায়দুর রহমান, মাওলানা আবদুল আলিম ফরিদী প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *