ভূমিকম্পের পর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া, নিহত প্রায় ৪০০

ভূমিকম্পের পর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া, নিহত প্রায় ৪০০

পাথেয় ডেস্ক : ২৮ আগস্ট শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানে ভয়াবহ ভূমিকম্প। ভয়াবহ এ ভূমিকম্পের পর সুনামিতে মৃত মানুষের সংখ্যা ৩৮০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিক। চারদিকে মৃত্যুর ছড়াছড়ি এখন। অন্যদিকে হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শনিবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গতকাল শুক্রবার ২৮ আগস্ট দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি হয়। সুনামির ফলে সৃষ্ট প্রায় ১০ ফুট উঁচু ঢেউ পালু শহরকে ভাসিয়ে দেয়। পুরো শহরকে একটি ধ্বংসস্তপে পরিণত করে দিয়ে যায় মূহুর্তেই।এখনো ভূমিকম্পের পরাঘাত হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজারো ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বাদ যায়নি হাসপাতাল, হোটেল, শপিং মল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সুনামি আঘাত হানলে আতঙ্কে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েন। তারা পালানোর চেষ্টা করেন; এ সময় চারদিকে আর্তনাদ শোনা যায়। ভূমিকম্পের পর আজ শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে। শহরটিতে হাজার হাজার ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। মানুষের জনজীবনে নেমে এসেছে প্রচন্ড দুর্ভোগ। একটি বিধ্বস্ত শহরের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে অাছে ‘পালু’।

ভূমিকম্প ও সুনামির এই ঘটনায় বিদ্যুৎব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ভূমিধসে শহরের প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তাঁদের উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগবিষয়ক সংস্থা বলছে, ভূমিকম্প ও সুনামিতে এখন পর্যন্ত ৩৮৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আর আহত হয়েছে ৫৪০ জন।

দুর্যোগবিষয়ক সংস্থার এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ভূমিকম্প ও সুনামিতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় হতাহতের সঠিক সংখ্যা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সুনামির পর উপকূলে অনেক মৃতদেহ দেখা গেছে। তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। এই প্রাণহানি ভূমিকম্পে, নাকি ভূমিকম্প-পরবর্তী সুনামির কারণে হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। টিভি ফুটেজে দেখা যায়, অনেক আহত মানুষকে খোলা আকাশের নিচে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার এক মন্ত্রীর বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, ভূমিকম্প ও সুনামিতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে উদ্ধার তৎপরতায় বিঘ্ন ঘটছে। এ ছাড়া পালু বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজধানী জাকার্তা থেকে কার্গো বিমানে করে ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে সেনাবাহিনী।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার আগে পালু শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তা তুলে নেওয়া হয়। এ কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা।

পালুতে থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির একজন আলোকচিত্রী বলছেন, ঠিক ভূমিকম্পের কারণে, নাকি সুনামির আঘাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার লমবক দ্বীপে সিরিজ ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে ৫ আগস্টের ভূমিকম্পে দেশটিতে ৪৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। ভূমিকম্পপ্রবণ দেশটিতে ২০০৪ সালে ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে। এতে লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো শনিবার এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সুনামি আঘাত হানার পর পালুর প্রধান বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *