পাকিস্তানও এখন বাংলাদেশ হতে চায় : ‍আল্লামা মাসঊদ

পাকিস্তানও এখন বাংলাদেশ হতে চায় : ‍আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টফোর ডটকম : দুশমন পাকিস্তানের জনগণও বাংলাদেশের উন্নয়নে মুগ্ধ উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আমাদের দেশ আল্লাহর রহমতে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলছে, আমাদের দেশ সারা পৃথিবীর জন্য এখন একটি রোল মডেল। আমাদের উন্নয়নের গতি ও মাত্রাকে আন্তর্জাতিকভাবে সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন। এমনকি আমাদের এ দেশের দুশমন পাকিস্তানিরাও আজ তাদেরকে সরকারকে আহবান জানায় যে,আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদের অন্তত বাংলাদেশ বানিয়ে দাও। অথচ এককালে এ পাকিস্তানিরাই আমাদের পরাধীন করে রেখেছিল। আমাদের সমস্ত অধিকার খর্ব করে রেখেছিল। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানি আজ সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশ উন্নয়নের দিকে ধাবমান।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমরা একদিন এক মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে আমাদের এ দেশকে বর্বর, জালিম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীন করেছিলাম। এরপর অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এ পর্যন্ত চলে এসেছে আমাদের সোনার বাংলাদেশ। পৃথিবী স্বীকার করতে বাধ্য, আমাদের দেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। এদেশের মানুষ সর্বদাই ইসলাম, আল্লাহ, রাসূলের প্রতি অনুগতশীল ও ধর্মপ্রাণ। ধর্ম ও দ্বীনের প্রতি এতো টান অন্যান্য দেশের লোকদের মাঝে কমই দেখা যায়। আমাদের দেশের মতো ঘনবসতি পৃথিবীর অন্য কোথাও আছে কিনা খুঁজে দেখতে হবে।

যুব সমাজকে ঠিকমতো কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলেই মাদকাসক্ত বাড়ছে মন্তব্য করে আল্লামা মাসঊদ  বলেন, কিছুসংখ্যক দুষ্কৃতকারী আছে যারা নিজেদের আর্থিক লাভের জন্য যুবসমাজকে মাদকের বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত করছে।

আজকে আমাদের যুবসম্প্রদায় হতাশাগ্রস্থ। মাদকাসক্তির করাল থাবায় তারা নিমজ্জিত। মাদকাসক্তির কারণে যুব শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ একটি দেশের গৌরব ও বড় শক্তিই হল সে দেশের যুবশক্তি। আমাদের যুবসম্প্রদায়ও খুব সমৃদ্ধশালী ও সম্ভাবনাময়। যদি তাদের কাজে লাগাতে পারি তাহলে দেখা যাবে,তারা অনেক বড় বড় কাজ করতে সক্ষম। কাজে তাদের অস্বাভাবিক তৎপর দেখা যায়। তেমনিভাবে আমাদের দেশের থেকে বাহিরে গিয়ে যারা কাজ করছেন। তারা প্রায় সকলেই প্রশংসিত।

ক্রসফায়ারের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজগঠন সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশ প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেললেও এর সমাধান সম্ভব নয়। যদিনা এর ব্যবহারকে প্রতিহত না করা যায়। যতদিন পর্যন্ত এর ব্যবহারকারী থাকবে ততদিন পর্যন্ত মাদকের ছোবল কমানো যাবে না। তবে হ্যা! এই ব্যবহারকে রুখতে পারে উলামায়ে কেরাম। কারণ, তারা যদি মানুষকে নৈতিকতার দিকে উদ্বুদ্ধ করে তবেই কেবল মাদক রোধ করা সম্ভব। কারণ, যদি অন্তর পরিষ্কার হয় তবেই কেবল অনৈতিকতা থেকে মুক্ত পাওয়া যায়। রাসূল সা. তার যুগে যখন মদকে হারাম করলেন। তখন সাথে সাথে তারা তা পরিত্যাগ করলেন। কারণ,তাদের হৃদয় ঠিক হয়ে গিয়েছিল। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষেই আমাদের ঐতিহাসিক পথযাত্রা।

তাবলীগের ইস্যু নিয়ে যে বিভাজন তৈরী হয়েছে তা অনভিপ্রেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বে সুন্দর একটা দাওয়াতি কাজ চলছিল। আফসোসের বিষয় হলো, এখানেও বিভক্তি তৈরী করা হয়েছে। বিভাজনকে কমাতেই আমরা এই পথযাত্রা করছি।

কওমী মাদরাসা স্বীকৃতি প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে এর একটা বড় আলামত হলো কওমী মাদরাসা স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সুন্নী মুসলমান। মাদরাসাকে ভালোবাসেন বলেই তিনি এই স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমরা তার শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি রুখতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের আওয়াজটা উঠাতে হবে,তখন মানুষ সচেতন হতে পারে। আজ তো দুঃখের বিষয়,আমাদের থেকে এ আওয়াজটাও চলে গেছে। দুর্নীতি খারাপ এটা সবাই জানে কিন্তু কারো ভেতর কোনও প্রতিক্রিয়া নেই।কারণ,ঐ যে আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই আমরা এই আওয়াজকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাই। আর এ লক্ষেই আমাদের ঐতিহাসিক এ পথযাত্রা। কারণ,এতে কথাবার্তা উঠবে। আওয়াজ উঠবে। তাতে যদি মানুষের সচেতনা আসে। শুভবুদ্ধি হয়।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমেরিকা পৃথিবীর অভিবাসী বন্ধু  রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অভিবাসীদের জন্য এসব উন্নত রাষ্ট্রগুলো একেকটা জতুগৃহে পরিণত হয়েছে। জার্মান, ফ্রান্স, রাশিয়া,চীন,জাপান সব দেশেই একই অবস্থা। কিন্তু সেখানে আমাদের এই বাংলাদেশ তাদের তুলনায় খুবই সামান্য। আমাদের দেশ ছোট,অথচ আমাদের জনগণ অনেক বেশী। তবুও আমরা ৮ লাখ রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে জায়গা দিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণ তাদের বুকে জড়িয়ে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যদি ১৬ কোটি বাঙালি আমরা খেতে পারি তাহলে ৮লাখ রোহিঙ্গাও আমাদের সাথে খেতে পারবে । পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজীর আর নেই। এমন হৃদত্যপূর্ণ আচরণ আর কোথাও নেই। বাঙালী বলেই তারা এমন অসহায় সবাইকে কাছে টেনে নিয়েছেন।

এসময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা আব্দুর রহীম কাসিমী, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা আবু সুফিয়ান যাকী, মুফতি তাজুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা সদরুদ্দিন মাকনুন, মাওলানা আইয়ুব আনসারী, মাওলানা আব্দুল আলীম ফরীদী, মাওলানা সাঈদ নিজামী, মাওলানা শুয়াইব আহমদ, মাওলানা মাসঊদুল কাদির, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ মাসঊদ, মাওলানা জিয়া বিন কাসেম, মাওলানা মোহাম্মদুল্লাহ, মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা কুতুব উদ্দীন, জামিয়তুল ইসলাহ কিশোরগঞ্জের শায়খুল হাদীস মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন, পঞ্চগড় জমিয়তের আহবায়ক মাওলানা ওয়াহীদুজ্জামান, গাজীপুর জমিয়তের আহবায়ক মাওলানা আব্দুর রহীম তালুকদার। কুমিল্লা জমিয়তুল উলামার আহবায়ক মাওলানা সারওয়ার আলম ভূইয়া, প্রমুখ।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, ভাঙ্গা পৌর মেয়র, আবু রেজা মুহা: ফয়েজ। পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি শহীদুল হক নুর মুন্সী ও যুবলীগের সভাপতি মামুনুর রশিদসহ নেতৃস্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *