অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ● গত দুদিনের ভারিবর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গত শুক্রবার রেয়াজুদ্দিন বাজারের দোকান মালিকদের বেশি ক্ষতি হয়েছে। জানা গেছে, দুদিনের ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বেশির ভাগ স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এর মধ্যে মুরাদপুর, চকবাজার, বহদ্দারহাট, ২ নম্বর গেট, প্রবর্তক, আগ্রাবাদ ও জিইসি মোড়ে বেশি জলাবদ্ধাতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ায় নগরীর বিভিন্ন জায়গার দোকানপাটের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় রেয়াজুদ্দিন বাজারের কয়েক হাজার দোকান ও গুদাম বন্ধ ছিল। সারা দিনের বৃষ্টিতে বেশির ভাগ মার্কেটের নিচতলার দোকানগুলোয় পানি ঢুকে পড়ে। এতে এসব দোকানের পণ্য ভিজে যায়। তামাকু-ি লেনের ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাসায় চলে যান। রবিবার তারা দেখেন, নিচতলার বেশির ভাগ দোকানেই পানি ঢুকে পড়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির পানি দোকানে ঢুকে পড়ায় প্রতিটি মার্কেটের নিচতলার দোকানগুলোর মালপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে গার্মেন্ট ও খাদ্যপণ্যের বেশি ক্ষতি হয়েছে। রেয়াজুদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাজারের শতাধিক মার্কেটের নিচতলার দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। দুদিনের বৃষ্টির পানিতে বাজারের ৩৫০-৪০০ দোকানের পণ্য ভিজে নষ্ট হয়েছে বলে জানান, এ ব্যবসায়ী নেতা। মূলত গত শুক্রবার চট্টগ্রামে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কালবৈশাখীর সঙ্গে ভারি বর্ষণের কারণে নগরীর প্রধান প্রধান এলাকা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোয় পানি ঢুকে পড়েছে। চট্টগ্রামের প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আছাদগঞ্জ, রেয়াজুদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, আন্দরকিল্লা, পাহাড়তলী, স্টেশন রোড, ফিরিঙ্গিবাজার ও বহদ্দারহাটের অধিকাংশ মার্কেটের দোকানপাট খুলতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে ক্রেতা সংকটে রয়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। ছুটির পর শ্রমিক-কর্মচারীরা রবিবার কাজে ফিরলেও বৃষ্টির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, টানা বৃষ্টির মধ্যে অনেকেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। এভাবে চলতে থাকলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে গুদামে মজুদ পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বিক্রির চেয়ে মজুদ পণ্য বাঁচানোর চেষ্টাই বেশি করছেন। এ কারণে বৃষ্টি না কমলে অনেক প্রতিষ্ঠান খুলছে না বলে জানান তিনি। নগরীর প্রধান পাইকারি বিক্রয় ও বিপণিকেন্দ্র নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেখা যায়। রেয়াজুদ্দিন বাজার এলাকায় কয়েকশ হকারের ব্যবসা থাকলেও বৃষ্টির কারণে অধিকাংশই বন্ধ রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে ফুটপাতের বিকিকিনি শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে বলে জানান নিউমার্কেট ও রেয়াজুদ্দিন বাজারের হকাররা। রবিবার খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও আছাদগঞ্জ এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোয় গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতার অভাবে বসে আছেন বিক্রেতারা। দুদিন ধরে তাদের বিক্রি অর্ধেকের বেশি নিচে নেমে এসেছে বলে জানান তারা। খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন প্রবেশমুখে দীর্ঘ যানজট ও সড়কের দুই পাশে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের।
বৃষ্টিতে যানজট বেড়ে যাওয়ার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ দিতে পারছেন না আড়তদাররা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভারী যানবাহন খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে আটকে থাকায় সেখানেই অনেক পণ্য নষ্ট হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।


