রাম মন্দির নির্মাণের জন্য আর্ডিন্যান্সের দাবি শিবসেনার

রাম মন্দির নির্মাণের জন্য আর্ডিন্যান্সের দাবি শিবসেনার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেড়শ বছর ধরে ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত বাবরি মসজিদ হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক বিরোধ কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ১৬ শতকে মুঘল সাম্রাজ্যের সময় বাদশাহ বাবরের নামে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হলেও হিন্দুদের দাবি এটি ছিল রামের জন্মভূমি। বাবরি মসজিদ রাম মন্দির হাঙ্গামা লেগেই আছে সবসময়।

১৫ অক্টোবর সোমবার ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য অধ্যাদেশ আনতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনা। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত এমপি বলেন, যেভাবে ট্রিপল তালাক, সংরক্ষণ (শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা) ইস্যুতে একাধিক সংশোধনী এনে সংসদে বিল পাস করা হয়েছে। সেভাবেই সরকারকে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য অর্ডিন্যান্স আনা উচিত।

অন্যদিকে চেন্নাইতে এক অনুষ্ঠানে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা শশী থারুর এক আলোচনাসভায় বলেন, কোনো হিন্দু চাইবে না যে, অন্য ধর্মস্থানকে ধ্বংস করে সেখানে রাম মন্দির নির্মাণ করা হোক।

শশী থারুর এই মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হলে শশী থারুর ১৫ অক্টোবর সোমবার তার সাফাইতে তার মন্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে দাবি করে বলেন, অনেক হিন্দু ওখানে রাম মন্দির চায় কারণ তাদের বিশ্বাস ওটা রামের জন্মভূমি। কিন্তু কোনো ভালো হিন্দু চাইবে না যে এমন কোনো জায়গায় মন্দির হোক যেখানে অন্য কোনো ধর্মীয়স্থান ধ্বংস করা হয়েছে। এটা আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য ছিল। আমি দলীয় কোনো মুখপাত্র নই, এজন্য আমার মন্তব্য দলের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা উচিত নয়।

এদিকে শশী থারুরের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিজেপি’র সিনিয়র নেতা সুব্রমনিয়াম স্বামী তাকে ‘নীচ আদমি’ (ছোট লোক) বলে অভিহিত করেছেন। স্বামী বলেন, সুনন্দা পুষ্কর মামলায় ওর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে, ওনাকে কারাগারে যেতে হবে। রাম মন্দির ও হিন্দুত্বের বিষয়ে উনি কিছুই জানেন না।

উল্লেখ্য, রাম মন্দির ভুবনেশ্বরের কেন্দ্রস্থলে খারবেল নগরের নিকট জনপথে অবস্থিত দেবতা রাম, দেবতা লক্ষ্মণ এবং দেবী সীতার সুন্দর চিত্রযুক্ত একটি মন্দির। প্রধান মন্দিরের সুউচ্চ চূড়াটি রাজধানী শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে দৃশ্যমান এবং এটিই এর মূল আকর্ষণ। আর বাবরি মসজিদ ভারতের উত্তর প্রদেশের, ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যা শহরের রামকোট হিলের উপর অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। ১৯৯২ সালে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের উদ্যোক্তারা, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ শুরু করে যা ১৫০,০০০ জন সম্মিলিত একটি দাঙ্গার রূপ নেয় এবং মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে ভূমিসাৎ করা হয়। ফলস্বরূপ ওই একই সালে ভারতের প্রধান শহরগুলোতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয় যা মুম্বাই ও দিল্লী শহরে ২০০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *