পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডে পুরো বিশ্ব এখন তোলপাড়। খাশোগির হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য তুরস্ক সফরে গেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রধান গিনা হাসপেল। এরইমধ্যে তিনি তুর্কি গোয়েন্দাদের কাছে থাকা অডিও রেকর্ড শুনেছেন।
২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে ব্যক্তিগত কাগজপত্র আনার প্রয়োজনে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন সৌদির খ্যাতনামা সাংবাদিক খাসোগি। নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত কনস্যুলেট ভবনের ভেতরেই সাংবাদিক জামাল খাসোগির মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করেছে সৌদি আরব। সাথে উঠে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা করে হয়েছিল তখন।
হাসপেলের সফরের ব্যাপারে গতকাল ২৪ অক্টোবর (বুধবার) ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গোপন সফরে হাসপেল গত সোমবার আমেরিকা থেকে আংকারার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং তিনি খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সময় ধারণ করা অডিও টেপ শুনেছেন। এ ঘটনার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তুরস্কের কাছে থাকা প্রমাণাদির সঙ্গে জড়িত হলেন। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য তুরস্ক সৌদি সরকারকে দায়ী করছে।
এদিকে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে গিনা হাসপেল আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্রিফ করবেন বলে কথা রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় খাশোগি নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তিনি এও বলেছিলেন, খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরব জড়িত থাকলে রিয়াদকে মারাত্মক শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু সৌদি আরব খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করার পর ট্রাম্প বলছেন, বিষয়টি কংগ্রেস দেখবে এবং তিনি রিয়াদের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি বাতিল করবেন না।
অপর দিকে সৌদি আরবের রাজতন্ত্র বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার পেছনে রাজা মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, রাজা সালমানের মস্তিষ্কে অনুপ্রবেশ করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না কিন্তু তার সঙ্গে আলাপ করে তিনি বুঝতে পেরেছেন, দুর্বৃত্ত হত্যাকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা শিগগিরই এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে ফেলব, তবে রাজা সালমান এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি দৃঢ় ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।
খাশোগির নিখোঁজ হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সাড়া পড়েছে। ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এত প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রিয়াদ। গত রবিবার তারা জানায়, এ নিয়ে কোনো দেশ যদি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারাও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।


