পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা উপকূলে ১৮৮ আরোহী নিয়ে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে জাকার্তা। অভিযানে কাউকে জীবিত পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছে উদ্ধারকারী দল।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে জাকার্তা থেকে উড্ডয়ন করা ৭৩৭ বোয়িং বিমানটি এক ঘণ্টা পর ৭টা ২০ মিনিটে পাংকাল মিনাং বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। এরপর তথ্য পাওয়া যায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু উড্ডয়নের ১৩ মিনিট পর থেকে এটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই এটি জাকার্তা উপকূলে বিধ্বস্ত হয়। য়ন এয়ারলাইন্সের দাবি, আকাশে ওড়ার পরই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় ‘বোয়িং- সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স এইট’ বিমানটিতে।
দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দফতর জানিয়েছে, এখান থেকে কোন আরোহীকে জীবিত পাওয়াটা হবে অলৌকিক ঘটনা। এসন ঘটনায় সাধারণত কেউ বাঁচেনা। বাঁচলেও জীবন নিয়ে চলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে মুখপাত্রের দাবি, বিধ্বস্ত বিমানটিকে শনাক্ত করা গেছে। জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ায় এবং স্রোতের কারণে যানটির মূল অংশে পৌঁছাতে পারছেন না ডুবুরীরা। বিধ্বস্ত বিমানটির ব্ল্যাক বক্স, ডাটা রেকর্ডারও শনাক্ত করা গেছে।
৩শ’র বেশি মানুষ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া প্রশাসন। অর্ধ-শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী দল এবং ১৩টি অ্যাম্বুলেন্সও কাজ করছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো শনাক্তে আরও ৪-৫ দিন সময় লাগবে বলে জানান তারা।
প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে বেড়েছে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা। অবহেলা আর অসেচনতার কারণে বিশ্বে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে
এর অাগে, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রুশ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ আরোহীর সবাই নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। বিমানটি মস্কো থেকে কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী রুশ শহর ওরস্কে যাচ্ছিল।
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইরানে ৬৬ আরোহী নিয়ে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ জন যাত্রী আর বাকি ছয়জন ক্রু। জাতীয় জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মুজতবা খালিদির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের ইস্পাহান প্রদেশের সামিরান শহরের পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার দক্ষিণ সুদানে একটি যাত্রীবাহী বিমান নদীতে ভূপাতিত হয়ে বিধ্বস্ত হলে নিহত হয় অন্তত ১৯ জন যাত্রী। বিমানের কো-পাইলট এবং এক শিশুসহ মোট তিন যাত্রীকে দূর্ঘটনাস্থল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
০১ আগস্ট ২০১৮ মেক্সিকোয় বিমান বিধ্বস্ত, আহত হয় ৮৫ জন। প্রদেশটির গভর্নর হোসে আইসপুরো একই টুইটে জানিয়েছেন, আরোহী ১০১ জনের মধ্যে কেউই মারা যাননি। তবে ৮৫ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাশিয়ার বিমান সংস্থাগুলোর বিমান আরও দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কৃষ্ণসাগরে বিধ্বস্ত হয় একটি বিমান, মারা যায় ৯২ জন।
২০১৫ সালের অক্টোবরে মিশরের সাইনাই এলাকায় বিধ্বস্ত হয় আরেকটি বিমান, যাতে মারা যায় ২২৪ জন। তবে সেই ঘটনায় ইসলামিক স্টেট বোমা পেতে রেখে মাঝ আাকাশে এটি উড়িয়ে দিয়েছিল বলে দাবি করেছিল।


