পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আসামি করে তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল ১৪ নভেম্বর বুধবার পল্টন থানায় এসব মামলা করা হয়।
এ ঘটনায় পল্টন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশকে মারধর, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ এবং সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে এসব মামলা হয়। মামলঅা বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকেই তিন দিন ধরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয় এলাকায় বইছিল নির্বাচনী উৎসবের হাওয়া। বিপুল পরিমাণ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে সেখানে। গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশের ‘রাস্তা চালু রাখার চেষ্টা’য় উৎসবের পরিবেশ সংঘাতময় হয়ে ওঠে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো হয়, ভাঙচুর করা হয় অনেক গাড়ি। এরপর থেকেই চলছে দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপ।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলছেন, গতকাল দুপুরে আমাদের হাজারখানেক নেতা-কর্মীর মিছিল পুরো রাস্তা আটকে দেয়। মিছিলটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি লেন চালু করার চেষ্টায় পুলিশ লাঠিপেটা করলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। খুব দ্রুত মারমুখী হয়ে ওঠেন তারা। এসময় শুরু হয় দু’গ্রুপের সংঘর্ষ। উত্তপ্ত অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে এরপরই তাঁদের লক্ষ্য করে প্রচুর কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ছররা গুলি ছোড়ে পুলিশ । গুলি-কাঁদানে গ্যাসের শেলের দ্রুম দ্রুম শব্দ, গ্যাসের ধোঁয়া, নেতা-কর্মীদের হইচই, ধর ধর চিৎকার, মানুষের ছোটাছুটি, হুড়মুড় করে দোকানের ঝাঁপ নামানোর শব্দ—সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কিছু যানবাহন ভাঙচুর ও পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দেড় ঘণ্টার সংঘর্ষে ২৩ পুলিশ সদস্য এবং অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি উভয় পক্ষের।
সংঘর্ষের জন্য পুলিশ দুষছে মির্জা আব্বাস, তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, বিএনপির নেতা আখতারুজ্জামান ও নবীউল্লাহকে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বিনা উসকানিতে কেবল ইস্যু তৈরির জন্য এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন বানচালের জন্য পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে বিএনপি।
অন্যদিকে, গতকাল মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এটা সরকার বা আওয়ামী লীগের সাবোটাজ হতে পারে।’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, নির্বাচন বানচালের জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে বিনা উসকানিতে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়। এবং সেখানে হেলমেট পরিহিত যে ছেলেরা ছিল তারাও ছাত্রলীগের বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।


