রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠাবে না প্রশ্নই আসে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠাবে না প্রশ্নই আসে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবে না প্রশ্নই আসে না মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত যেতে জোর করছে বলে একটি নেতিবাচক প্রচারণা রয়েছে। বাংলাদেশ কেন তাদের দেশ ছাড়তে জোর করবে? এই দেশই তো তাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রশ্নই আসে না।

চলমান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার কূটনীতিকদের অবহিত করার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য রোহিঙ্গা শিবিরের প্রধানদের (মাঝি) ইউএনএইচসিআরের সহায়তায় সেখানে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাপান এবং সরকার এই বিষয়ে কাজ করছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘মুলতবি’ করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে অস্বীকার করায় আজ এটা হয়নি, কিন্তু তা পরে হতে পারে। তবে প্রত্যাবাসন কবে শুরু হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়নি। কারণ রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে ইচ্ছুক নয়।

এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত করা হয়েছে, কারণ তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় না।

আবুল কালাম আরো বলেন, আমরা তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম এবং অপেক্ষা করেছি, কিন্তু কেউ ফিরে যেতে রাজি হয়নি। রোহিঙ্গারা যখন রাজি হবে তখন এই প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রত্যাবাসন করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু তার আগেই বিভিন্ন শিবিরের রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ শুরু করে এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে অনিচ্ছার কথা জানায়।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একমত হয়েছিল যে ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে এবং ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ১৫০ জনকে ফেরত পাঠানো হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বছরের পর বছর ধরে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমারের নৃশংসতার কারণে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সর্বশেষ গত বছর ২৫ শে আগস্ট সেনাবাহিনীর নৃশংসতার পর কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *