সাদ নয়, পাক তাবলীগ আমিরের জানাযায় যাচ্ছে নিজামুদ্দীন শূরা

সাদ নয়, পাক তাবলীগ আমিরের জানাযায় যাচ্ছে নিজামুদ্দীন শূরা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাওলানা সাদ নয়, পাকিস্তান যাচ্ছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর পরিবারের লোকজন। রোববার সকাল থেকেই হাজী আব্দুল ওয়াহাবের মৃত‌্যু সংবাদ প্রকাশ করে কিছু অনলাইন পোর্টাল নিউজ করেছে হাজী আব্দুল ওয়াহাবের জানাযায় যাচ্ছেন তাবলীগ জামাতের বিশ্ব মারকায নিজামুদ্দীনের দায়িত্ব পালনকারী মাওলানা সাদ কান্ধলভী। এ ভুল সংবাদে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন।

পরে এ বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিজামুদ্দীন মার্কাজে যোগাযোগা করে এর কোনো সত্যতা জানতে পারেনি পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে নিজামুদ্দীন মার্কাজে সকাল থেকেই যোগাযোগ করা হলে আমরা কোনো তথ্য পাচ্ছিলাম না। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী হাজী আবদুল ওয়াহাবের জানাযায় মাওলানা সাদ কান্ধলভী যাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

নিজামুদ্দীন মার্কাজে হাজী আবদুল ওয়াহাব রহ.-এর জানাযা বিষয়ে পরামর্শসভায় মাওলানা সাদ কান্ধলভী পাকিস্তানে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। আলেমদের পরামর্শে সবাই তাকে পাকিস্তান যেতে বারণ করলে তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের উপর হাজী আবদুল ওয়াহাব সাহেবের অনেক অবদান রয়েছে। আমি না যেতে পারলেও আমাদের পরিবারের কারও না কারও যেতে হবে।

পরে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর আগ্রহের কারণেই তার ছেলে মাওলানা ইউসুফের নাম তিনি প্রস্তাব করেন। নিজামুদ্দীন মার্কাজের প্রবীণ মুরব্বী মিয়াজি আজমতের একান্ত খাদেম মাওলানা নুরুল হাসান জানিয়েছেন, মাওলানা সাদ কান্ধলভী যাচ্ছেন না হাজী আবদুল ওয়াহাব সাহেবের জানাযা। পরামর্শের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাকিস্তান যাবেন, মিয়াজি আজমত, মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী, মিয়াজি আজমতের ছেলে মাওলানা ফারুক, মাওলানা শওকত প্রমুখ।

নিজামুদ্দীন মার্কাজের বরাতে মাওলানা নুরুল হাসান জানান, পাকিস্তানে জানাযায় অংশগ্রহণকারীদের ভিসা প্রসেসিং শেষে তারা পাকিস্তানে যাত্রা করবেন।

প্রসঙ্গত, রোববার (১৮ নভেম্বর) ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেন পাকিস্তান রায়বেন্ড মার্কাজের জিম্মাদার হাজী আব্দুল ওয়াহাব । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

হাজী আব্দুল ওয়াহাবের মৃত্যুতে গোটা বিশ্ব তাবলীগ সাথীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ভারতে দিল্লীর নিযামুদ্দীন মারকাযে বিশেষ আমলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাবলীগের প্রবীণ এ মুরব্বীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছেন তাবলীগ জামাতের বিশ্ব মারকায নিজামুদ্দীনের দায়িত্ব পালনকারী মাওলানা সাদ কান্ধলভী।

উল্লেখ্য, প্রসঙ্গত, হাজী আব্দুল ওহাব ১৯২৩ সালের পয়লা জানুয়ারী ‌ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লাহোর ইসলামিয়া কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তিনি মাদরাসায় পড়ুয়া কোন আলেম ছিলেন না। তবে দাওয়াত ও তাবলীগের সিলসিলায় নিজের পুরো জীবনকেই উৎসর্গ করেছেন। জীবনে কখনোই দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ থেকে জুদা হতে পারেননি।

উল্লেখ্য, স্নাতকোত্তরের পর তিনি পূর্ব-ভারতে তহসিলদার হিসেবে চাকুরি করেন। তিনি যুব ক্লাব মজলিস-ই-আহরার-ই-ইসলামের জন্যও কাজ করেন এবং ভারতের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক রাহবার মা্ওলানা আব্দুল কাদির রায়পুরি রহ. (১৮৭৮-১৯৬২) দ্বারা প্রভাবিত হন। তিনি মজলিস-ই-আহরার-এর বুয়েওয়ালার সভাপতি ছিলেন।

তিনি তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা ও আমির মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভীর জীবনকালেই তাবলীগে জামায়াতের সাথে যুক্ত হন। ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি তিনি নিজামুদ্দীন মার্কাজে আসেন এবং ৬ মাস ধরে সেখানে মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভীর সান্নিধ্যগ্রহণ করেন। তাবলীগে পুরোপরিভাবে সময় ও দ্বীনি কাজ প্রচারের জন্য তিনি তাঁর চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম সেই পাঁচজন লোক, যারা তাদের সমগ্র জীবন তাবলীগের কাজ করার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী, ইউসুফ কান্ধলভী এবং ইনামুল হাসান কান্ধলভীর সরাসরি সঙ্গী ছিলেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নিজামুদ্দীন মার্কাজের এমারত এবং আলমী শূরা পদ্ধতির মধ্যকার চলমান রেষারেষির বাইরে ছিলেন হাজী আবদুল ওয়াহাব। তিনি নিজামুদ্দীন মার্কাজের অনুসরণ অনুকরণকেও প্রাধান্য দিতেন।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *