মাসউদুল কাদির ● এনজিও ব্যুরো অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম শনিবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারার বেসরকারি সেবা সংস্থা ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদ বাংলাদেশের অফিস পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম ও ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ তাকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
বাংলাদেশের কোথায় কোথায় ইসলাহুল মুসলিমীন বাংলাদেশের সেবামূলক কার্যক্রম চলছে এর বিস্তারিত খোঁজ খবর নেন কে, এম আব্দুস সালাম। তিনি সিলেটের বিধবা পল্লী এবং গাজীপুরের ইয়াতিম খানা ফ্রেন্ডস অব যায়েদের কথা জেনে খুবই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। ফ্রেন্ডস অব যায়েদ এ পরিদর্শনে যাবার আগ্রহও প্রকাশ করেন এনজিও ব্যুরো অধিদপ্তরের এ মহাপরিচালক।
মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের অধিকাংশই তরুণ যুবক উল্লেখ করে কে এম আ.সালাম বলেন, রোহিঙ্গাদের এখন অন্তত খাবারের বিষয়টির নিশ্চয়তা হয়েছে। তবে তাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় রাখা কঠিন।
মতবিনিময় সভায় ইসলাহুল মসলিমীন পরিষদ রোহিঙ্গাদের মধ্যে মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম পরিচালনা করতে চায়-এমন আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে এ জাতীয় উদ্যোগকে আমি সবসময় স্বাগত জানাই। রোহিঙ্গারা নিজেরাও এখন মারামারি, হানাহানি করছে। এরা যাতে অন্য কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর না হতে পারে, এ বিষয়ে আমাদের সযত্ন সতর্ক হওয়া উচিৎ৷ তাই আমি মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম নিয়ে খুবই আশাবাদী। রোহিঙ্গাদের মধ্যে মোটিভেশনাল প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাদের এভারনেস তৈরি করতে হবে। এ ধরনের সেবামূলক কাজে আস্থা এবং বিশ্বাস স্থাপন করার আহ্বান জানান কে এম আব্দু সালাম।
এনজিও ব্যুরো অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে, এম আব্দুস সালামকে অভিনন্দন জানিয়ে ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আমি খুব খুশি হয়েছি আমাদের কে, এম আব্দুস সালাম ভাই এখনো মা-বাবার খেদমত করতে পারছেন। মা-বাবা যত বৃদ্ধই হোক না কেন অনেক বড় সম্পদ তারা।
তিনি বলেন, একজন মানুষ তার অনেক বয়স্ক একজন বাবা মারা গেলে খুব কান্না করছিলো। কেউ একজন তাকে এতো কান্না কেন করছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার বাবা অনেক বয়স পেয়েছেন তা সত্য, যে লোকটা এতদিন বিছানায় পড়ে নিঃস্বার্থভাবে একান্ত আমার জন্য দোয়া করতেন, তিনি আজ চলে গেলেন।
সেবামূলক কাজে বন্ধুসূলভ আচরণ আসলেই আমাদের কাজকে আরো বেগবান করে জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমি নিজেও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে কাজ করেছি। সবসময় আমি সহজিকরণের দিকে খেয়াল রেখেছি৷ ফলে, কাজ বাস্তবায়নটা আমার জন্য সহজ হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় আমি নেতিবাচক দিকটা বড় করে না দেখে ইতিবাচক দিকটা বড় করে দেখায় সাফল্য এসেছে৷ বাস্তবতা হলো, নেতিবাচক চর্চায় কাজের পরিবেশ বিনষ্ট হয়। অনেকক্ষেত্রে এমপ্লয়ারদের কদম ফেলারও সুযোগ থাকে না।
কে এম আব্দুস সালামকে অভিনন্দন জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, দেশের দরিদ্র মানুষের সেবায় আপনি নিরন্তর কাজ করে যাবেন বলে আমরা আশাবাদী।
এ ছাড়াও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাহী পরিচালক জুনুদ উদ্দীন মাকতুম, প্রশাসনিক ও প্রোগ্রাম অফিসার মাওলানা আব্দুল আলীম ফরিদী, সমম্বয় কর্মকর্তা মাওলানা সাঈদ নিজামী, ফ্রেন্ডস অব জায়েদ-এর সুপারেন্টেন্ড মাওলানা আব্দুর রহিম তালুকদার, প্রকাশনা কর্মকতা মাওলানা মাসউদুল কাদির, নির্বাহী সদস্য মাওলানা শফিকুল ইসলাম, একাউন্টেন্ট আব্দুল ওয়াহিদ, প্রজেক্ট ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম সোহাগ ও সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার দিদার হোসাইন তারেক।
গ্রন্থনা সহযোগিতা : কাউসার মাহমুদ



