পাথেয় রিপোর্ট : গত সিলেট সিটি করপোরেশনের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। দ্বিতীয় মেয়াদে যখন বিএনপিপন্থীরা আরিফুল হককে বিজয়ী দেখতে চাইলো বাঁধ সাধলো তখন তখনকার বিশ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মহানগর আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি শেষ পর্যন্ত ভোটে দাঁড়ান। এরপরও আরিফুল হকের বিজয় দমিয়ে রাখা যায়নি।
বিস্ময়ক হলেও সত্য, বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপির সঙ্গে তাদের প্রেমের বাঁধনে তাতেও কোনো ঘা লাগেনি। সিলেট বিএনপিতে একটা অস্বস্তি থাকলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি জামায়াতকে বলা চলে কোনো শাস্তির আওতায় আনেনি। আগের জোটীয় প্রেম অটুট রেখেছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা রাজনীতির রাজনীতি। রাজনীতি করতে হলে অন্তরের আরও একটা চোখ থাকতে হয়। বিএনপি হয়তো হৃদয়ে চোখে জামায়াতকে আগামী নির্বাচনে তাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভাবছে।
জামায়াতে ইসলামী এসব কিছুর পরও ঘরে বসে থাকেনি। আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খালেদা-ফখরুলদের আগেই ভোটের মাঠে আগেভাগেই নেমেছে দলটি। রাজনৈতিক মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিএনপিকে চাপে ফেলতেই এ কাজ করছে বলে জানা গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেশের ৬৪ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জামায়াত নেতারা। নিবন্ধন হারানো দলটির নেতারা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। একটা বড় মাইন্ড গেম যে চলছে তা বুঝাই যাচ্ছে।
নেতারা বলছেন, ২১ নভেম্বর দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার শেষে আসন বণ্টনের পথে অগ্রসর হবে বিএনপি। তখনই চূড়ান্ত হবে জামায়াতের প্রার্থিতা। এরপরই তারা স্বতন্ত্র নাকি ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করবেন সেটিও ঠিক হবে। ২২ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত নতুন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়েছিল জামায়াত। সেবার দলটির ১৮ প্রার্থী নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র তিনটি আসনে দলটির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এরপর ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় জামায়াত। সেবার দলটির ১৭ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপির সঙ্গে জোটে থেকে ৩৫ আসনে অংশ নিয়েছিলো জামায়াত। উন্মুক্ত ছিলো আরও ৪টি আসন। কিন্তু সেবার মাত্র দুজন জামায়াতের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াত এবারও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের জোটে রয়েছে। দুই দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও এখনও চূড়ান্ত হয়নি আসন বণ্টন।
জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, নিজে থেকেই ১০টি আসনে জামায়াতকে ছাড় দিতে চেয়েছে বিএনপি। তবে জামায়াত চেয়েছে ৬০ আসন।
তবে রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিকে চাপে ফেলতে আগেভাগেই ভোটের মাঠে নেমেছে জামায়াত। এরই মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে ৬৪ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জামায়াত নেতারা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল গণমাধ্যকে জানিয়েছেন, তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। ৩০০ আসনেই জামায়াতের যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। কিন্তু জোটের সঙ্গে ৫০ থেকে ৬০টি আসনে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় জামায়াত। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ আসনে দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
শিগগিরই জোটের বৈঠকেই আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ন্ত হবে। আর জোট নির্ধারিত প্রতীকেই জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন বলেও জানান বুলবুল।


