ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধ রেল লিংক খুলছে

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধ রেল লিংক খুলছে

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধ রেল লিংক খুলছে

২য় পর্ব

শরিফুল আলম : আখাউড়া-আগরতলা আন্তঃদেশীয় রেলসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের মাঝে আন্তঃদেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার এবং পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এমব্যাংকমেন্টসহ প্রায় ১০ কি. মি. ডুয়েল গেজ রেল লাইন, কালভার্ট, কাস্টভার্ট, কাস্টমস-ইমিগ্রেশন হাউস এবং পি-ওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট ও পূর্ত অন্যান্য কাজ করতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৭৮১.১৮ লাখ টাকা। এতে অর্থায়নে ভারত সরকার (অনুদান) ৪২০৭৫.৯৬ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকার: ৫৭০৫.২২ লাখ টাকা ব্যয় করবে।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভারতের ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একই কৃষ্টি ও সংস্কৃতির জনসাধারণের মাঝে আন্তঃদেশীয় সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভূত হয়। বাংলাদেশ রেলওয়েকে গণপরিবহণের নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, যুগোপযোগী ও গণমুখী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গত ১২ জানুয়ারি ২০১০ এ বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে দু’দেশের মাঝে সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও উন্নত করার লক্ষ্যে যৌথ ইশতেহার ঘোষিত হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ এ আখাউড়া ও আগরতলার মাঝে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ১৬ আগস্ট ২০১৬ এ ৪৭৭৮১.১৮ লাখ টাকা মূল্যমানের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৫৬.৩৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে এমব্যাংকমেন্টসহ প্রায় ১০ কি. মি. ডুয়েল গেজ রেল লাইন, কালভার্ট, কাস্টমস-ইমিগ্রেশন হাউজ এবং পি-ওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পূর্ত কাজ।

এছাড়াও গত বছরগুলোতে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২০০৯-১৭ সাল পর্যন্ত ৯,০২২.৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৪৮টি (৪৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প ও ৫টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প) উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২০০৯ সাল থেকে ২৯৭.৯৮ কি. মি. রেলপথ, ২৭৬টি সেতু, ৮২টি স্টেশন বিল্ডিং নতুন নির্মাণ এবং ২৪৮.৫০ কি. মি. রেলপথ ডুয়েলগেজে ‍রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও ১,১২৩.৭৪ কিলোমিটার রেলপথ, ৬৩০টি সেতু, ১৭১টি স্টেশন বিল্ডিং, ৪০৫টি যাত্রাবাহী কোচ, ২৭৭টি ওয়াগন সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের জন্য প্রচলিত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি প্রকল্পে যথাযথ পুর্নবাসন কার্যক্রমের সংস্থান রয়েছে। রোলিংস্টকের সমস্যা দূরীকরণের জন্য ২০টি এমজি লোকোমোটিভ, ২৬টি বিজি লোকোমোটিভ, ১,১২০টি যাত্রীবাহী গাড়ি, ২০ সেট ডিইএমইউ, ৫১৬টি মালবাহী ওয়াগন এবং ৩০টি ব্রেক ভ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে।

আন্তঃদেশীয় রেলসংযোগ সাশ্রয়ে ও নিরাপদে যোগাযোগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধ‍ুপ্রতীম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে রেল যোগাযোগ বাড়লে উভয়দেশের পণ্য মালামালের আমদানি রপ্তানিসহ বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর যোগাযোগকে সহজ, নিরাপদ ও লাভজনক করবে।

লেখক : কলা্মিস্ট

২৬.১১.২০১৮

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *