শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

দ্বিতীয় পর্ব

এমরানা আহমেদ : শহরাঞ্চলে শিশু যক্ষ্মা রোগী শনাক্তের হার বেশি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে গ্রামাঞ্চলে শিশু যক্ষ্মা রোগী শনাক্তের হার তুলনামূলক কম। আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়। কাজেই এ থেকে শিশুদের বাঁচাতে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মুখে রুমাল ধরে কাশি দিতে হবে।

আক্রান্ত ব্যক্তিরা যেখানে সেখানে থুথু, কফ না ফেলে নির্দিষ্ট একটি পাত্রে ফেললে এবং পরে সেটি মাটিতে পুতে রাখলে বা পুড়িয়ে ফেললে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতিটি ক্ষেত্রে এ ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করলে শিশুসহ অন্যান্য সদস্যরা যক্ষ্মার হাত থেকে বাঁচতে পারবে।

সাধারণত পরিবার কিংবা প্রতিবেশী বড়দের কেউ যক্ষ্মায় ভুগলে তার সঙ্গে যে শিশুর মেলামেশা হয় সে শিশুর যক্ষ্মা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যক্ষ্মায় আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ জীবাণু মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক যক্ষ্মার জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। শিশু তার সংস্পর্শে এলে তার ফুসফুসের অভ্যন্তরে চলে যেতে পারে। একইভাবে যক্ষ্মায় আক্রান্ত লোকের প্রস্রাব কিংবা গ্ল্যান্ডের পুঁজ যক্ষ্মার জীবাণুতে ভর্তি থাকে বলে অন্যরাও এ থেকে সংক্রমিত হতে পারে।

যক্ষ্মায় ভুগছে এমন কোনো প্রাণীর দুধ, যেমন গরুর দুধ যদি পাস্তুরাইজ না করিয়ে পান করা হয়, তাহলে যক্ষ্মার জীবাণু দেহে প্রবেশ করে যক্ষ্মার সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় মা যক্ষ্মা রোগে ভুগলে নবজাতক শিশুও এ রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে।

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগী হিসেবে কেবল তারাই অন্তর্ভুক্ত হয়, যাদের কফে এই জীবাণু শনাক্ত করা যায়। এই নিয়মের কারণে শিশুরা কর্মসূচির বাইরেই রয়ে যায়। এর বেশকিছু কারণ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো-বেশির ভাগ শিশু পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট কফ দিতে পারে না। তাছাড়া জীবাণুর সংখ্যা ছোটদের কফে এত কম থাকে যে তা পরীক্ষায় ধরা না-ও পড়তে পারে। এর ফলে অধিকাংশ শিশুর রোগ শনাক্ত হয় না। শিশুদের যক্ষ্মারোগ নির্ণয় বড়দের মত এত সহজ নয়।

শিশুদের যক্ষ্মার লক্ষণগুলো প্রায়ই নিউমোনিয়া, হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বা ব্রঙ্কিওলাইটিসের সঙ্গে মিলে যায় বলে সবসময় সন্দেহের বাইরে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যক্ষ্মায় আক্রান্ত শিশুর কফ, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো কোনো উপসর্গই থাকে না।

লেখক : কলামিস্ট ও শিশু গবেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *