শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

প্রথম পর্ব

এমরানা আহমেদ : বিশ্বের ২২টি দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) রিপোর্ট অনুসারে যক্ষ্মা প্রবণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠতম। যক্ষ্মা শুধু বড়দেরই আক্রান্ত করে না, শিশুরাও এতে আক্রান্ত হয়। বিশ্বের মোট যক্ষ্মা রোগীর ১০ শতাংশ শিশু, যাদের বয়স ১৫ বছরের নিচে। বিশ্বব্যাপী শিশুমৃত্যুর প্রথম ১০টি কারণের মধ্যে যক্ষ্মা একটি। বাংলাদেশে মোট যক্ষ্মা রোগীর ৩ শতাংশ শিশু হলেও শিশুদের যক্ষ্মা এখনো একটি অবহেলিত বিষয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড়দের কফ পরীক্ষা করলেই রোগটির জীবাণু পাওয়া যায়। কিন্তু শিশুদের যক্ষ্মার জীবাণু কফে থাকে না। পাকস্থলী থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হলে জীবাণু শনাক্ত করা যায়। তাদের পাকস্থলির রস সংগ্রহ করা কঠিন। Tuberculin skin test (TST) পরীক্ষার ফল দিয়ে সবসময় সঠিক সিদ্ধান্তে আসা যায় না, এক্স-রে পরীক্ষার ফলও অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। শিশুর ফুসফুস বহির্ভূত যক্ষ্মা শনাক্ত করার জন্য দক্ষতার প্রয়োজন। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে বড়দের যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, শিশুদের ততটা নয়।

‘যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব’ এ কথাটি আমাদের সবার জানা থাকা দরকার। সারা বিশ্বে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যক্ষ্মা এখনোও অসংখ্য মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত। পাশাপাশি দেশে অনেক শিশুই যক্ষ্মা রোগে ভোগে। প্রোটিনজনিত অপুষ্টিতে ভোগে যেসব শিশু, তাদের যক্ষ্মা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। হাম ও হুপিং কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার পর শিশুদের টিবি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, এইডস ও যক্ষ্মার জীবাণু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি চক্রের সৃষ্টি করে। কোনো শিশু এইডসে ভুগলে তার যক্ষ্মা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার এইডস রোগী যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে খুব তাড়াতাড়ি তা মারাত্মক হয়ে ওঠে।

ঘনবসতিপূর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করা দরিদ্র পরিবারের শিশুরা বেশি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বস্তিতে বসবাসকারী যক্ষ্মায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, বিশ্বে যক্ষ্মায় আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা শতকরা ১০ ভাগ। শিশুরা সাধারণত আক্রান্ত হয় প্রাপ্তবয়স্ক যক্ষ্মা রোগীর দ্বারা।

একজন রোগী সারা বছরে ১০ জন সুস্থ মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। ০-১৫ বছর বয়সী শিশু যে কোনো সময়ে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হতে পারে। তবে ৫ বছরের নিচের বয়সের শিশুর যক্ষ্মায় আক্রান্তের ঝুঁকি অনেক বেশি।

লেখক : কলামিস্ট ও শিশু গবেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *