শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

চতুর্থ পর্ব

এমরানা আহমেদ : খেয়াল রাখতে হবে-শিশুটি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া, খেলাধূলা করছে কি না, প্রাণবন্ত আছে কি না, দিনদিন তার ওজন কমে যাচ্ছে কিনা অথবা বয়স অনুপাতে ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কিনা,আশপাশে, পরিবার বা প্রতিবেশী বা স্কুলে কারো যক্ষ্মা হয়েছে কিনা, বারবার অথবা দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে কিনা, যা সাধারণ চিকিৎসায় কিছুতেই সারছে না, শিশুটি অপুষ্টিতে আক্রান্ত কি না।অপুষ্টি ও যক্ষ্মা রোগীর সংস্পর্শে এই দুটি হলো শিশুদের যক্ষ্মার মূল কারণ। এই সংস্পর্শ যত কম বয়সে ঘটে, ঝুঁকি তত বাড়ে।

আমাদের দেশে যক্ষ্মায় আক্রান্ত শিশুর শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই ফুসফুসের যক্ষ্মা হিসেবে দেখা যায়। দ্বিতীয়ত, সর্বোচ্চ হচ্ছে শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ডের যক্ষ্মা (টিউবারকুলোসিস লিমপেডেনোপ্যাথি)। তৃতীয়ত, শরীরের বিভিন্ন হাড় যক্ষ্মার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যাকে বলা হয় স্কেলিটাল টিউবারকুলোসিস। এর মধ্যে সমধিক হচ্ছে মেরুদণ্ডের যক্ষ্মা বা কেরিস স্পাইন, হিপ ও হাঁটুর যক্ষ্মা। শিশুর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের যক্ষ্মা মারাত্মক। সাধারণত যক্ষ্মার জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার ছয় মাসের মধ্যে মস্তিষ্কের যক্ষ্মা দেখা যায়।

এছাড়া যক্ষ্মার জীবাণু কিডনি, ক্ষদ্রান্ত, ত্বক, লিভার ইত্যাদি অংশে আক্রমণ করতে পারে। কিডনির যক্ষ্মার ক্ষেত্রে যক্ষ্মার জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর পর হয়ে থাকে। অন্যদিকে হাড়ের যক্ষ্মা হতে তা সময় নেয় তিন বছরের মতো।

যক্ষ্মা কোনো বংশগত রোগ নয়। ফুসফুস ছাড়া শরীরের অন্যান্য স্থানেও যক্ষ্মা হতে পারে। যক্ষ্মা সাধারণতঃ বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়, রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু বাতাসে মিশে যায় ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তা সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে। এক নাগাড়ে তিন সপ্তাহ বা তার অধিক সময় পর্যন্ত কাশি থাকে, সন্ধ্যায় বা রাতে জ্বর আসে, ক্ষুধা কমতে থাকে, শরীরের ওজন কমে যায়, বুকে ব্যাথা হয়, শ্বাস কষ্ট হয়, কফের সাথে রক্ত বের হতে পারে।

জন্মের পরপর প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দেয়াসহ শিশুকে হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল ব্যবহার করা এবং যেখানে সেখানে থুথু না ফেলার অভ্যাস করানো উচিত। ডটস্ পদ্ধতিতে অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদী, সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা করা হয়।

লেখক : কলামিস্ট ও শিশু গবেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *