শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা
তৃতীয় পর্ব
এমরানা আহমেদ : সরকার যক্ষ্মায় আক্রান্ত শিশুদের পানিতে গুলে যায়, এমন ঔষধ সরবরাহ করছে। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে সফল করতে শিশু বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে সঠিক সমন্বয় ঘটানো গেলে প্রকৃত শিশু যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সঠিক সময়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হবে। শিশুরা যক্ষ্মা রোগের ভয়াবহার হাত থেকে রেহাই পাবে।
বড়দের মতো শিশুদের যক্ষ্মা বেশি ছোঁয়াচে না হলেও শিশুদের ফুসফুস বা শরীরের অন্য কোনো অংশে প্রাথমিক ক্ষত করার পর রক্তের মাধ্যমে দ্রুত শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বড়দের ক্ষেত্রে যা সচরাচর দেখা যায় না। শিশুর যক্ষ্মা রোগের উৎপত্তি যক্ষ্মায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকার কারণে ঘটে। কিন্তু বড়দের বেলায় যক্ষ্মা নিজের শরীরেই লুকিয়ে থাকা অবস্থা থেকে আত্মপ্রকাশ করে থাকে। বিশেষ করে অন্য কোনো অসুখে ভুগে যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়।
যক্ষ্মার জীবাণু শিশুর ফুসফুসে প্রবেশ করে যে প্রাথমিক ক্ষত সৃষ্টি করে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে তা আপনাআপনি শুকিয়ে যায়। বড়দের ক্ষেত্রে দেখা যায় তার বিপরীত চিত্র। কেননা প্রায়ই ফুসফুসে জটিল ক্ষত বর্তমান থাকে। শিশুদের যক্ষ্মায় ফুসফুসের কাছাকাছি গ্ল্যান্ড প্রধানত আক্রান্ত হয়ে থাকে, বড়দের ক্ষেত্রে এই আক্রমণ ফুসফুসে ক্ষত সৃষ্টি করে। এছাড়া বড়দের তুলনায় শিশুর যক্ষ্মার ক্ষতসমূহে যক্ষ্মার জীবাণু খুব কম পাওয়া যায়।
শিশুদের যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় বেশ কঠিন। কারণ প্রায় ক্ষেত্রে রোগের খুব স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না।
সচরাচর যেসব লক্ষণ দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে-দীর্ঘদিন ধরে অল্প জ্বর, বিকেলের দিকে এই জ্বর কিছুটা বাড়ে, রাতে ঘাম দিয়ে ছেড়ে যায়; অনেকদিন ধরে কাশি, বিশেষ করে তা যদি ৩০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়; খাওয়ায় অরুচি; ওজন কমে যাওয়া বা ওজন না বাড়া। স্রেফ ওজন কমে যাওয়া বা সময়মতো ওজন না বাড়াই হতে পারে যক্ষ্মার লক্ষণ, যা অনেক অভিভাবকের চোখ এড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে পরিবারদের শিশুটির প্রতি মনোযোগ দিন।
লেখক : কলামিস্ট ও শিশু গবেষক


