শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

শিশু যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে প্রয়োজন সচেতনতা

শেষ পর্ব

এমরানা আহমেদ : নিয়মিত, সঠিকমাত্রায় ও পূর্ণ মেয়াদের চিকিৎসায় যক্ষ্মা ভাল হয়। অনিয়মিত এবং অসম্পূর্ণ চিকিৎসায় যক্ষ্মা রোগ জটিল আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে চিকিৎসা করলেও ভাল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে।

বাংলাদেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি ক্লিনিক/ হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এনজিও ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়সহ যক্ষ্মার চিকিৎসা করা হয় ও ঔষধ দেয়া হয়।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাংলাদেশে একটি সফল কর্মসূচি। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য সর্বজন স্বীকৃত। টিকাদান কর্মসূচি, ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ, মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য আছে। বিশ্বখ্যাত জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় প্রকাশ করেছে।

যক্ষ্মা একটি সামাজিক ব্যাধি। এখনও অনেক মানুষ যক্ষ্মাকে কেবল ফুসফুসের সমস্যা মনে করছেন। আসলে এ রোগ শরীরের যে কোনো জায়গায় হতে পারে। দারিদ্র্য, অপুষ্টি, পরিবেশ দূষণ, ঘনবসতি, অজ্ঞতা, অসচেতনতা ও দেহে অন্যান্য রোগের (যেমন HIV, diabetes, ফুসফুসের অন্যান্য সমস্যা) উপস্থিতি প্রভৃতি যক্ষ্মা রোগের সঙ্গে জড়িত।

যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে যেমন নিয়ন্ত্রণে আছে তেমনি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান। শিশু যক্ষ্মা চিহ্নিতকরণ সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কঠিন। শিশু চিকিৎসার সদস্যরা শিশুদের যক্ষ্মা শনাক্ত ও চিকিৎসায় আরো বেশি ভূমিকা নিতে পারেন। এছাড়াও বাংলাদেশে রয়েছে কফে জীবাণুমুক্ত যক্ষ্মা, ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মা, ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা। STOP TB Strategy দিয়ে এ রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের জন্য দেশে কফ পরীক্ষা ও চিকিৎসা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

সরকারের এনটিপি ও সহযোগী সংস্থার কর্মীরা রোগীকে বিনামূল্যে ঔষধ ও পরামর্শ সেবা দিচ্ছে। মাঠকর্মীরা রোগীর বাড়িতে গিয়ে ঔষধ খাইয়ে আসছে। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখন শুধু প্রয়োজন তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো। বাংলাদেশের পিপিএম (পাবলিক-প্রাইভেট মিক্স) মডেল একটি সফল ও অনুকরণীয় মডেল। যেখানে কেউ বিক্ষিপ্তভাবে কাজ না করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ভিত্তিতে কাজ করে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যক্ষ্মামুক্ত সফল বাংলাদেশ গড়ে তুলব আমরা-এমন অঙ্গীকার হোক আমাদের।

লেখক : কলামিস্ট ও শিশু গবেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *