আবার নির্বাচন দেয়ার কোন সুযোগ নেই : সিইসি

আবার নির্বাচন দেয়ার কোন সুযোগ নেই : সিইসি

পাথেয় রিপোর্ট : ঐক্যফ্রন্টের দাবি মেনে ফের নির্বাচন দেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। নির্বাচনে নানা অনিয়ম তুলে ধরে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘আমরা আর নতুন করে নির্বাচন করব না। নতুন করে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই।’ রোববারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতকরা ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

তিরি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে তিনটি কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় ফলাফল চূড়ান্ত করা যায়নি। ২৯৮টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৯টি, জাতীয় পার্টি ২০টি, বিএনপি ৫টি, গণফোরাম ২টি, বিকল্পধারা ২টি, জাসদ ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, তরিকত ফেডারেশন একটি, জাতীয় পার্টি-জেপি একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসন পেয়েছেন।

‘নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। এ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে যাতে কোনো শঙ্কা না থাকে, প্রতিটি ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য সারা দেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

তবে বিগত দিনের নির্বাচনের ফলাফলে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের ভোটের সংখ্যা কাছাকাছি থাকত। এমনকি হলো যে এবার ভোটের ব্যবধান এতো বেশি হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এটা তো আমাদের দেখার কিছু নাই, বিশ্লেষণেরও কিছু নাই। ভোট তো আমরা দেইনি। জনগণই ভোট দিয়েছে।’

কেএম নুরুল হুদা বলেন, প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব কিছু করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ‘যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি প্রতিরোধের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল।’

সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনের একক প্রচেষ্টায় জাতীয় নির্বাচনের মতো একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহায়তায় এ কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে সহযোগিতার জন্য প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, তাদের কর্মী, সমর্থক, ভোটার, পর্যবেক্ষকদের ধন্যবাদ জানান নূরুল হুদা।

এছাড়া দায়িত্বপালন করায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিজিবির মহাপরিচালক, আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকে ও তাদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান সিইসি।

তিনি বলেন, আমরা আশা করব, নতুন সরকার দেশকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নির্বাচনের খবর প্রচার করা সাংবাদিকদেরও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিএনপি কিংবা ঐক্যফ্রন্ট যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে গেজেট প্রকাশে কোনো দেরি হবে কিনা- জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘না। অভিযোগ করলে করতে পারে। তবে গেজেট প্রকাশ হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফলাফল আসতে আরও ৪-৫ দিন সময় লাগবে। তারপরই আমরা গেজেট প্রকাশ করব।’

এ নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু গ্রহণ যোগ্যতার মাপকাঠিতে এ নির্বাচন নিয়ে আপনারা কোনো ক্ষেত্রে অতৃপ্ত কিনা- জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘না। আমরা অতৃপ্ত না, তৃপ্ত। সারাদিন আপনাদের মাধ্যমেই, টেলিভিশনের মাধ্যমে নির্বাচনের অবস্থা দেখেছি। ব্যাপকভাবে অনিয়ম হয়েছে এমন কিছু আমরা পাইনি। তবে আমরা যেখানে অনিয়ম পেয়েছি সেখানে নির্বাচনই বন্ধ করে দিয়েছি। দেশি-বিদেশি কোনো গণমাধ্যমে অনিয়ম দেখতে পাইনি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *