যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দরকার—৩য় পর্ব

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দরকার—৩য় পর্ব

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দরকার

মো. সিরাজুল হক : যদি উত্ত্যক্তকারী পরিচিত কেউ হয়, তাহলে তার নাম, ঠিকানা জানা থাকলে উল্লেখ করতে হবে। কেউ যৌন হয়রানির শিকার হয় বা হচ্ছে, এমন কোনো ঘটনা দেখলে যদি আশপাশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সঙ্গে সঙ্গে তা অবগত করা উচিত।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি হেল্পলাইন রয়েছে, যার নম্বর ১০৯। এই নম্বরে ফোন করে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ করা যায়। এই হেল্পলাইন ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। এছাড়া যৌন হয়রানির শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ডায়াল করলে পুলিশি সহয়তা পাওয়া যায়।

শিশু, কিশোরী, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গামী ছাত্রী, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত নারী শ্রমিক, নারী কর্মচারী, কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, ডাক্তারসহ সব পর্যায়ের নারী। গণপরিবহনেও নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যৌন হয়রানি বন্ধে পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে সচেতন করতে পারেন; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা; কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী; রাস্তাঘাটে চলাচলকারী সাধারণ জনগণ; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী; বিজ্ঞ আদালত; ভ্রাম্যমাণ আদালত; জনপ্রতিনিধি; সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণি পেশার সচেতন মানুষ যৌন হয়রানি বন্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া এ ক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধিতে গুরুপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ করতে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাসরুমে যৌন হয়রানি সম্পর্কে আলোচনা করা এবং এর নেতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরা; যৌন হয়রানি উৎসাহিত হয়-গণমাধ্যমে এমন বক্তব্য, বিজ্ঞাপন, নাটক ইত্যাদি প্রচার না করার পক্ষে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেতন ও কার্যকর করা; যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটলে সবাই ভিকটিমের পাশে দাঁড়ানো; স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অতিকার্যকর কিছু পদক্ষেপ সমূহ।

আমাদের সমাজে নারীরা এখনো কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে আবার কোথাও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে নারীদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ নারী উন্নয়ন ছাড়া সমাজের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের মূলস্রোতে নারীর অংশগ্রহণ না থাকলে পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাগজে কলমেই থেকে যাবে। নারী অধিকার রক্ষা করা না গেলে, নারী একদিকে যেমন অস্বিত্ব সংকটে ভুগবে, তেমনি হীনমন্যতায় বাধাগ্রস্ত হবে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ। তাই নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি আইনের সঠিক প্রয়োগও অত্যন্ত প্রয়োজন।

লেখক : কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *