‘ধর্ম, মানবতা ও দেশ প্রেম শিক্ষা দেয় দারুল উলূম দেওবন্দ’
পাথেয় টোয়েন্টিফর ডটকম : ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ ধর্ম, মানবতা ও দেশ প্রেম শিক্ষা দেয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়টা তো সব ধর্মেই থাকে, মুসলমানদেরও আছে। তাই ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে দারুল উলূম দেওবন্দের অবদান অনেক বেশি। কিন্তু তার থেকেও বড় ভূমিকা পালন করেছে দারুল উলূম দেওবন্দ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে।
উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলূম দেওবন্দ ধর্ম, মানবতা ও দেশ প্রেমের শিক্ষা দেয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নুমানী।
সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা দারুল উলুম দেওবন্দের লক্ষ্য উল্লেখ্য করে মুফতী আবুল কাসেম নুমানী বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার প্রধান লক্ষ্য উদ্দেশ্য হলো, সমগ্র পৃথিবীতে ইসলামের প্রচার-প্রসার করা এবং সারাবিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা। ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষার্থীদেরকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলা হয়।
৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার ভারতে উত্তরখণ্ডের হাইকোর্টের বিচারক রাজিব শর্মা দারুল উলূম দেওবন্দে এলে মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল খালেদ মাদরাজী এবং মাওলানা আব্দুল খালেক সাম্ভুলী প্রমুখ।
ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলনে দারুল উলূম দেওবন্দ বড় ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে দারুল উলূম দেওবন্দের নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল খালেক মাদরাজী রাজিব শর্মাকে বলেন, মাওলানা কাসেম নানুতবী রহ. দারুল উলূম দেওবন্দকে ব্রিটিশবিরোধী এক শক্তিশালী কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দুদের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের অনেকের তাজা রক্তে এই ভারত মুক্তি পেয়েছে। ভারত স্বাধীন হয়েছে।
মাওলানা মাদরাজী বলেন, শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলাম। দারুল উলূম দেওবন্দে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা দেয়া হয়। আর ইসলামই সততা, আমানতদারি, মানবপ্রেম এবং দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, দেশপ্রেম দারুল উলূম দেওবন্দের মাটির সঙ্গে নিয়ে আছে। এখানকার সকল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী দেশ প্রেমিক।
সাক্ষাৎ শেষে উত্তরখণ্ডের হাইকোর্টের বিচারক রাজিব শর্মা দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষা, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, অনেক দিন ধরে দারুল উলূম দেওবন্দে আসার খুব ইচ্ছে ছিল আমার। আজ এখানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি আপনাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : আসরে হাজির ইসলামী পোর্টাল, দিল্লি
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির



