ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের দুর্বিসহ জীবন
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মধ্যপ্রচ্যের বিষফোঁড়া ইসরাইল। একটি বিষফোঁড়াই যখন বিশ্বের বিষ তখন আর সেখানকার কারাগার কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। ফিলিস্তিনী মুসলিম তরুণতরণীরা জীবনের দুর্বিসহ একটা সময় পার করছে। বিশ্বজুড়ে একটাই আওয়াজ, কখন মুক্তি মিলবে ফিলিস্তিনিদের। ইহুদিবাদী ইসরাইলের ‘এতজিওন’ কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিরা দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক অধিকার পরিষদ- আল-আহ্দ। এটি বলেছে, এই প্রচণ্ড শীতে গরম কাপড় ও চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র অভাবে ব্যাপক কষ্ট পাচ্ছেন ফিলিস্তিনি বন্দিরা। শরীর গরম রাখার জন্য তাদেরকে গরম কাপড় কিংবা কম্বল সরবরাহ করেনি ইহুদিবাদী কর্তৃপক্ষ।
ওই পরিষদ জানিয়েছে, ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি বন্দিদের কষ্ট দেয়ার জন্য এই ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ছাড়া, ফিলিস্তিনি বন্দিদেরকে নিয়মিত মারধর করা হয় বলে জানিয়ে ওই পরিষদ বলেছে, সকল আন্তর্জাতিক আইন ও ঘোষণা লঙ্ঘন করে এ কাজ করে যাচ্ছে ইহুদিবাদীরা।
ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক চিকিৎসা কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ইহুদিবাদী ইসরাইল পাঁচ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে যাদের মধ্যে ৯৮০টি শিশু ও ১৭৫ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া, ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ২০১৮ সালকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ বছর’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, এ বছর নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণগ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে ইসরাইল।
প্রসঙ্গত, ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকার তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইলের কারাকর্তৃপক্ষ তার হাতে হ্যান্ডকাফ ও পায়ে ডানণ্ডাবেড়ি পরিয়ে রেখেছিল। একই অবস্থা করেছিল তার মাকেও।
১৭ বছর বয়সী অহেদ তামিমি বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম থেকেই আমি নানা কষ্টকর পরিস্থিতির মুখে পড়ি। জিজ্ঞাসাবাদকারীরা আমাকে হুমকি দেয় এবং বলে যে, তারা আমার পরিবারের ক্ষতি করবে।”
তামিমি বলেন, “এমনকি একজন জিজ্ঞাসাবাদকারী আমাকে অপদস্ত করে। সে বলেছিল যে, আমার চুল সুন্দর এবং এ ধরনের আরো মন্তব্য করেছে। আমি বয়সে ছোট হলেও জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমার কাছে আমার পরিবারের কাউকে থাকতে দেয়া হয় নি।”
এ তরুণী জানান, ১০ জনের সঙ্গে তাকে ছোট্ট একটি সেলে রাখা হয় এবং সেই সেলে মাত্র ছয়টি বিছানা ছিল।
তিনি আরো বলেন, “বেশি লোকজন থাকার কারণে আমি বাথরুম ব্যবহার করতে পারছিলাম না এবং মেয়েরা কারাকক্ষের মেঝেতে ঘুমাতো। সেলের ভেতরে আমরা নড়াচড়া করতে পারতাম না। আমরা হাঁটতে পারতাম না। সেলে বেশি জানালা ছিল না। যখন আমি জেগে উঠতাম তখন মনে হতো আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।”
গত ডিসেম্বর মাসে অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে ইসরাইলের বর্বর সেনারা আটক করেছিল ফিলিস্তিনের এ তরুণীকে। সে সময় তামিমি ইসরাইলের দুই সেনার মুখে থাপ্পড় মারেন এবং সেই ভিডিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনিদের অনেকের কাছেই তিনি এখন মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক।
তামিমির বিরুদ্ধে সেনাদের ওপর হামলা, উসকানি দেয়া এবং ইসরাইলি সেনাদের কাজে বাধা দেয়াসহ ১২টি অভিযোগ আনা হয়। ২৯ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পর তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবসানের লক্ষ্যে তিনি সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন


