পাথেয় রিপোর্ট : একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিদের নেওয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
গতকাল বুধবার আবেদনের উপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য ছিল। সে অনুযায়ী আজ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ থেকে এই সিদ্ধান্ত আসল।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ও সাকিব মাহবুব এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা শুনানি করেন।
শুনানিতে মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হয়নি এখনো। কিন্তু একাদশ সংসদের নির্বাচিত এমপিদের শপথ দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে দেশে ছয়শতজন এমপি রয়েছেন। এটা সংবিধানের লঙ্ঘন। যদি নির্বাচিত এমপিদের নাম সম্বলিত গেজেটে চলতি মাসের শেষ দিকে করত এবং শপথ পড়ানো হতো তাহলে এ আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হয় না।
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রিট আবেদনকারী এমপি নন, এমনকি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি। ফলে তিনি কীভাবে সংক্ষুব্ধ হয়ে এ রিট দায়ের করলেন? আমি মনে করি রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে সরাসরি খারিজ করা উচিত।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত এমপিদের নামের গেজেট ও শপথ নিতে আইনে কোথাও বারিত করা হয়নি। এছাড়া ৩০ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী ইতোমধ্যে বিষয়টি সংসদ প্রক্রিয়ার অংশ হওয়ায় এটা কোন আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ নেই। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য রাখেন।
গত ৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদের পক্ষে সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। পরে জবাব না পেয়ে তৌহিদ হাইকোর্টে রিট করেন।
নোটিশ পাঠানোর পরে মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গত ৩ জানুয়ারি নেওয়া শপথ বাতিল বা প্রত্যাহার করতে স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদের মেয়াদোত্তীর্ণ হলে আগের সংসদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এরা দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ৩ জানুয়ারি নেওয়া শপথে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথের জন্য নির্বাচিতদের উচিত ছিল ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করা। এজন্য আমরা বলেছি, গেজেটের মাধ্যমে এ শপথ বাতিল করতে।
আর অনুচ্ছেদ ১৪৮(৩) এ বলা হয়েছে, এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের আগে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সে ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
অনুচ্ছেদ ১২৩(৩) এ বলা হয়েছে, তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্য রূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।

