১২০০ বছরের পুরনো ক্যালিগ্রাফি নিয়ে চীনের ক্ষোভ

১২০০ বছরের পুরনো ক্যালিগ্রাফি নিয়ে চীনের ক্ষোভ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ১২০০ বছরের একটি পুরনো ক্যালিগ্রাফি তাইওয়ানের জাতীয় রাজপ্রাসাদ জাদুঘর থেকে জাপানের টোকিও জাতীয় জাদুঘরে ধার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাইওয়ানের ন্যাশনাল প্যালেস মিউজিয়াম। আর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে চীন।

‘রিকুইয়াম টু মাই নেফিউ’ নামে ক্যালিগ্রাফিটি এঁকেছিলেন ইয়ান ঝেনকিং (খৃষ্টাব্দ ৭০৯-৭৮৫) নামে এক ব্যক্তি, যাকে মনে করা হয় চীনের একজন মহান ক্যালিগ্রাফার। প্রিয় ভাগনে ও ছাত্রের অকাল মৃত্যুর পর ৭৫৯ সালে তিনি এই ক্যালিগ্রাফিটি তৈরি করেন।

হংকংয়ের চাইনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অধ্যাপক ড. টং ক্যাম ট্যাং বিবিসিকে বলেছেন, যদি আপনি চীনা শিল্প ও শিল্পের ইতিহাস নিয়ে পড়তে চান, অাপনাকে অবশ্যই ইয়ান ঝেনকিং সম্পর্কে জানতে হবে। তিনি চীনের একজন রত্ন। পুরো চীন তাকে এক নামে চেনে, জানে।

ট্যাং আরো বলেন, এই ক্যালিগ্রাফি তৈরির প্রথম থেকেই এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন ঝেনকিং। খসড়া তৈরি থেকে শুরু করে শেষের অঙ্কণ এবং প্রতিটি ছাঁপ তার হাত দিয়েই তৈরি। যা এটিকে একটি অমূল্য শিল্পের মর্যাদা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি অংশ রয়েছে এই ক্যালিগ্রাফিটির যার শেষ অংশটি অনেক আগেই হারিয়ে গেছে।

চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের একজন অধ্যাপক টং কাম টাং বলেন, ইয়ান ঝেনকিং চীনের খুব সুপরিচিত একটা নাম। আর ওই মাস্টারপিসটি ইয়ান ঝেনকিং একটা খসড়া আকারে করেছিলেন।এই শিল্পকর্মটি কয়েকশ বছর ধরে চীন সংরক্ষণ করে রেখেছিল। ১৯৪০ সালে তাইওয়ান অন্যান্য শিল্পকর্মের সঙ্গে এটি নিয়ে যায়।

সেই থেকে তাইওয়ানের ন্যাশনাল প্যালেস মিউজিয়াম অত্যন্ত নিরাপত্তার সঙ্গে এটা সংরক্ষণ করে রেখেছে। এখন এই ক্যালিগ্রাফিটি টোকিওর এক শিল্প প্রদর্শনীতে দেখানো হচ্ছে। এদিকে জাপান ও চীনের যুদ্ধের সময়কার ইতিহাস টেনে অনেকে বলেন, জাপান চীনের অংশ দখল করেছিল। ১৯৩৭ সালে জাপানের সৈন্যরা চীনের পূর্বের শহরে হামলা করে। এতে তিন লাখের মতো মানুষ গণহত্যার শিকার হয়। আর এ কারণেই ক্ষোভ প্রকাশ করছে চীন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *